আইইউটিতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি সময় বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
আইইউটিতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি সময় বৃদ্ধি

প্রকাশ:  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-তে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা সম্প্রতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আইইউটির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বার্তায় জানানো হয়েছে, টেলিটক সার্ভারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আবেদন প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে অন্যান্য আবেদনের শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু হয় ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। ওআইসির সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।

ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষা হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি বিবেচনায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান থাকবে ৩৫ নম্বর করে, রসায়ন ১৫ নম্বর এবং ইংরেজি ১৫ নম্বর। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পাঠ্যসূচির উপর ভিত্তি করে।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ও বাছাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে একটি কম্বাইন্ড মেরিট লিস্ট তৈরি করা হবে। দ্বিতীয় সময়ের পরীক্ষার্থীদের কোনো মার্কস কাটা হবে না। শিক্ষার্থীদের নম্বর এবং গ্রেড ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১২টায় প্রকাশ করা হবে। যদি কোনো সংশোধনী প্রয়োজন হয়, তা ২৬ এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত করা যাবে। চূড়ান্ত যোগ্য প্রার্থীর তালিকা ৪ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২টায় প্রকাশিত হবে।

দ্বিতীয় ধাপের ফি পরিশোধের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের ৫ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২টা থেকে ১২ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হবে। ছবিসহ অ্যাডমিট কার্ড আপলোড এবং ডাউনলোডের সুযোগ ২৭ মার্চ ২০২৬, বেলা ২টা থেকে ২ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকবে। যারা এই সময়ে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে ব্যর্থ হবেন, তারা পরবর্তী ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ৩ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে প্রার্থীদের সশরীরে আইইউটির রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত হয়ে সমাধান করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষার ভেন্যু পরে বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভর্তিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সময়মতো আবেদন করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। টেলিটক সার্ভারে সাময়িক সমস্যার কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলেও বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, সকল শিক্ষার্থী নিরাপদে এবং সুষ্ঠুভাবে আবেদন করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়ায় সহায়ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে আরও বেশি শিক্ষার্থী সুযোগ নিতে পারবে এবং শিক্ষার মান রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়া এবং সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।

আইইউটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ওআইসির সদস্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, আধুনিক সুবিধা এবং বহুভাষিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের উন্নতিতে সহায়ক। এবারের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর হলেও ফলাফল অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভরভাবে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপডেট দেখে আবেদন সংক্রান্ত সব তথ্য জানতে পারবে। পাশাপাশি, যে কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি সহায়তা করবে।

অতএব, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এই সুযোগ কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করার ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখন অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক এবং প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।

এই ভর্তি প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যারা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিবিএ প্রোগ্রামে পড়তে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছেন, সিলেবাস, ভর্তি পরীক্ষা এবং বাছাই প্রক্রিয়ার তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিস্তারিতভাবে প্রদত্ত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত