বিইউবিটিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা ও প্রযুক্তির অঙ্গীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
বিইউবিটিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা ও প্রযুক্তির অঙ্গীকার

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা এবং আবেগঘন পরিবেশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। অমর একুশের এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল শোক, শ্রদ্ধা, আত্মমর্যাদা এবং ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে উজ্জীবিত এক অনন্য পরিবেশ। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সকলে মিলে একাত্মতার বন্ধনে আবদ্ধ হন।

দিনের কর্মসূচি শুরু হয় প্রভাতফেরির মাধ্যমে। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাতে ফুল এবং হৃদয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে তারা প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। প্রভাতফেরির সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গেয়ে এবং ভাষা শহীদদের স্মরণ করে তারা এগিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারের দিকে। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল এক আবেগঘন নীরবতা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ যেন ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল।

প্রভাতফেরি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ক্লাব এবং সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং তাদের আন্তরিক অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভা এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। তিনি তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধিকারের সংগ্রামের সূচনা। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যা বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তার আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এই আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং নিজের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করতে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভাষার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি এটিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। তিনি তার বক্তব্যে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধুমাত্র আবেগের বিষয় নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের অংশ। তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। বিইউবিটি সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিইউবিটি ইনোভেশন হাবের উদ্যোগে ‘ByteBuilders’ নামের একটি প্রযুক্তি উপস্থাপনা। এই উপস্থাপনায় দেখানো হয় কীভাবে প্রযুক্তিকে মাতৃভাষায় রূপান্তর করা যায় এবং বাংলায় রোবোটিক্স চর্চাকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করা সম্ভব। রিসার্চ গ্র্যাজুয়েট স্কুলের গবেষক রাকিব হাসান, শাহাদাত হোসাইন সানি, আবদুল্লাহ আল সাদনান এবং মাহবুবুল ইসলাম হাতে-কলমে বাংলায় রোবোটিক্সের বিভিন্ন দিক প্রদর্শন করেন। তাদের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং বাংলা ভাষায় প্রযুক্তি শিক্ষার সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা আজ স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। তারা মনে করেন, ভাষার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি এটিকে প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এই দোয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। দোয়ার সময় পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল এক গভীর নীরবতা এবং শ্রদ্ধার আবহ।

বিইউবিটির এই আয়োজন শুধু একটি দিবস পালন নয়, বরং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বিইউবিটি আবারও প্রমাণ করেছে, ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা, চেতনা এবং ভবিষ্যতের পথচলার অংশ। বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার যে অঙ্গীকার বিশ্ববিদ্যালয় করেছে, তা ভবিষ্যতে আরও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত