ঢাবিতে ঈদের জামাতের সময়সূচি ঘোষণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদুল ফিতরের জামাতের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঈদের জামাত ঘিরে দেখা দেবে উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা একসঙ্গে অংশ নেবেন আনন্দ ও সম্প্রীতির এই ধর্মীয় আয়োজনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আ-এ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতীব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র মোয়াজ্জিন এম এ জলিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসল্লিদের সুবিধার্থে জামাতের সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অধিক সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

ঈদের দিন সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। প্রশাসন আশা করছে, সকলের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খলভাবে এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন সম্পন্ন হবে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল জামে মসজিদ-এ সকাল ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল-এর লনে এবং ফজলুল হক মুসলিম হল-এর পূর্ব পাশের খেলার মাঠেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতি বছর ঈদের দিন ঢাবি ক্যাম্পাসে যে মিলনমেলা তৈরি হয়, তা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পরিণত হয় এক অনন্য সামাজিক বন্ধনের উৎসবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। অনেকেই পরিবার থেকে দূরে অবস্থান করলেও এই আয়োজন তাদের জন্য এক ধরনের পারিবারিক আবহ তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকরা বলেন, ঢাবির ঈদের জামাত দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রকাশ ঘটে, তা নতুন প্রজন্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও বটে।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, ঈদের দিন সকালে ক্যাম্পাসে নামাজ আদায় করা তাদের কাছে বিশেষ অনুভূতির বিষয়। কেউ কেউ বলেন, গ্রামের বাড়িতে যেতে না পারলেও ক্যাম্পাসে এই আয়োজন তাদের একাকিত্ব অনেকটাই দূর করে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে। নামাজের স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, অজুখানার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়েও সচেতনতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। এই দিনে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, দান-খয়রাত এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যমে মুসলমানরা উদযাপন করেন এই উৎসব। ঢাবির মতো একটি বৃহৎ শিক্ষাঙ্গনে এই আয়োজন তাই শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, এবারের ঈদুল ফিতরের জামাত ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হচ্ছে এক আনন্দঘন পরিবেশ, যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত