খুবিতে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় মধ্যরাতে মানববন্ধন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৫১ বার
খুবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গভীর রাতে মানববন্ধন

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর রাতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এই কর্মসূচি আয়োজন করে আইন ডিসিপ্লিনসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইংরেজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, ‘একটির পর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা আমাদের সহপাঠীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাফায়েত ইসলাম শুভ বলেন, ‘মৌমিতা আপুর মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের সড়ক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিফলন। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান আকাশ বলেন, ‘আজ মৌমিতা আপু, কাল হয়তো আমরা—এই ভয় নিয়েই প্রতিদিন রাস্তায় বের হতে হয়। আর কোনো সহপাঠীকে এভাবে হারাতে চাই না। বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ মানববন্ধনের মাধ্যমে খুলনা সিটি করপোরেশনের কমিশনার বরাবর দুই দফা দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হোক এবং খুলনা নগরীতে লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা হোক।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল (৩১ মার্চ) দুপুর ১টায় পুনরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে খুলনা জেলা পরিষদ ভবনের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৌমিতা হালদার তার পিতার সঙ্গে রিকশায় ডাকবাংলা মোড় থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির প্রাইভেট কার রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি এবং প্রতিবাদে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ কেবল তাদের সহপাঠীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নয়, বরং সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করার একটি সচেষ্ট প্রচেষ্টা।

শহর এবং দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে লাইসেন্সবিহীন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিতে থাকে। এই মানববন্ধন ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন এবং জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মানববন্ধন এবং শিক্ষার্থীদের পদক্ষেপ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। অনেকেই এ ধরনের উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন এবং দাবি করেছেন, নিরাপদ সড়ক ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা শিক্ষার্থীদের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত