অনলাইন-অফলাইন ক্লাসে সিদ্ধান্ত আসছে শিগগিরই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার
অনলাইন অফলাইন ক্লাস সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসবে।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক, এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত নেওয়া হবে। এরপর আসন্ন বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিএনসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সুবিধা-অসুবিধা এবং প্রস্তাবগুলো শোনা হয়েছে। এসব মতামত বিবেচনায় রেখে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় ক্লাস শুরু হয়েছে। রমজান, ঈদুল ফিতর এবং অন্যান্য ছুটির কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীরা যখন স্বাভাবিক পাঠক্রমে ফিরতে শুরু করেছে, তখনই নতুন করে অনলাইন ক্লাসের সম্ভাবনা সামনে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আরও তীব্র হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপের মুখে পড়েছে। এই চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অনলাইন শিক্ষার সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার একটি সমন্বিত মডেল তৈরি করা গেলে তা বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য ডিভাইস ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।

অভিভাবকদের একাংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, বিশেষ করে যারা শহরাঞ্চলে বসবাস করেন এবং অনলাইন শিক্ষার সুযোগ পান। তবে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের অভিভাবকরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অনলাইন ক্লাস চালু হলে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অনলাইন ক্লাসকে সময় সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক মনে করলেও অনেকেই সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার পরিবেশকে বেশি কার্যকর বলে মনে করেন। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি শিক্ষাদান বেশি ফলপ্রসূ বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন।

সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা যায়, আবার একই সঙ্গে শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং সব দিক বিবেচনা করে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি আশ্বাস দেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে সবাই প্রস্তুতি নিতে পারেন।

সব মিলিয়ে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয় ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত