ঢাকায় কিছু স্কুলে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ বার
ঢাকায় অনলাইন অফলাইন ক্লাস

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা মহানগরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে তিনদিন সশরীরে ক্লাস এবং বাকি তিনদিন অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যবস্থার অধীনে, প্রতি সপ্তাহে শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে অফলাইনে বা সশরীরে ক্লাসে অংশগ্রহণ করবেন। অন্য তিন দিন অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলবে, যেখানে শিক্ষকরা স্কুলে এসে অনলাইনে ক্লাস নেবেন। শিক্ষামন্ত্রী এসময় উল্লেখ করেন যে, শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “এই নতুন পাঠদানের পদ্ধতি আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর করা হবে। যদি এটি সফল হয়, তবে ধীরে ধীরে সমগ্র দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হবে না, বরং শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করবে।” তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও সশরীর শিক্ষার সমন্বিত সুবিধা পাবেন, যা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “ঢাকা মহানগরীর পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সংকট এবং শহরের যানজট অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে। একই সঙ্গে সশরীর শিক্ষার অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কার্যক্রম চালু থাকবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে সর্বোত্তম শিক্ষাগত ফলাফল অর্জন করুক।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও প্রশাসনকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সুষ্ঠুভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং যে কোনও সমস্যায় সমাধানসহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচবে, যানজট কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ও সশরীর শিক্ষার সমন্বয় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সময় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঢাকা মহানগরের মতো শহরগুলোতে যেখানে যাতায়াতের সমস্যা বেশি, সেখানে এই ধরনের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেবে।

শিক্ষামন্ত্রী এ সময় আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য শহরেও পরীক্ষামূলক এই পদ্ধতি কার্যকর হলে সমগ্র দেশে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা হবে, যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করবে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্যও এটি একটি সুযোগ, যেখানে তারা অনলাইন ও সশরীর শিক্ষার সমন্বয় করে আরও কার্যকর পাঠদান করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবিষয় নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের দক্ষতা অর্জন করুক। এটি আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।” তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেন, পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থা সফল করতে সকল শিক্ষক ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষার সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সশরীর শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ, দলগত কার্যক্রম ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পাবেন। শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, “শিক্ষার্থীরা দুই ধরনের শিক্ষার সমন্বয়ে আরও দক্ষ, সচেতন ও আধুনিক শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে উঠবে। এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, সহজলভ্য এবং কার্যকর করবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত