বর্ষবরণে মুখর চবির চারুকলা ক্যাম্পাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪০ বার
বর্ষবরণে মুখর চবির চারুকলা ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে রঙিন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মূল ক্যাম্পাসে ফিরে এবার প্রথমবারের মতো পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে যাচ্ছে ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এ উপলক্ষে বাঁশ, কাগজ, রং ও সৃজনশীল উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা শৈল্পিক ভাস্কর্য, মুখোশ ও প্রতীকী কাঠামো। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে যেন এখন শিল্প ও উৎসবের এক মিলনমেলা।

বর্ষবরণের এই প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও ব্যস্ততা। কেউ রংতুলিতে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছেন বাঙালির ঐতিহ্য, কেউ আবার মুখোশ ও ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন পর নিজেদের মূল ক্যাম্পাসে বৈশাখ উদযাপনের সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা এক আবেগ কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এবারের পহেলা বৈশাখে সকাল থেকেই আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেবেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শোভাযাত্রা শেষে জারুলতলায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে দিনব্যাপী ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে কাবাডি ও বলি খেলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী চত্বরে বসবে বৈশাখী মেলা, যেখানে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা উপকরণ প্রদর্শিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। ১৯৭০ সালে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয় প্রখ্যাত শিল্পী রশিদ চৌধুরীর নেতৃত্বে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে এটি সরকারি চারুকলা কলেজের সঙ্গে একীভূত হয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দীর্ঘ সময় এটি নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় অবস্থিত থাকলেও ২০১১ সালের পর থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি ধাপে ধাপে মূল ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত হয়। অবশেষে ২০২৫ সালের ২২ মে থেকে ইনস্টিটিউটটি সম্পূর্ণভাবে মূল ক্যাম্পাসে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করে, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা জানান, এত বছর পর নিজেদের মূল ক্যাম্পাসে বসে পহেলা বৈশাখ উদযাপন তাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তারা মনে করছেন, এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়, বরং নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ভাস্কর্য, পোস্টার আর মুখোশ তৈরির কাজ শেষ করেছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের একাংশ জানায়, এবারের বৈশাখ তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে সীমিত পরিসরে নববর্ষ উদযাপন করতে হয়েছে তাদের। এবার বৃহৎ পরিসরে সহপাঠীদের সঙ্গে একত্রে উৎসব উদযাপন করতে পারার আনন্দই আলাদা। এতে তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও সংগঠকরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির কারণে কিছু প্রস্তুতি কিছুটা বিলম্বিত হলেও শেষ মুহূর্তে সবকিছু দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আয়োজন সফল করার জন্য সকলেই একসঙ্গে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের বর্ষবরণ আয়োজন সফল করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আয়োজনের প্রতিটি অংশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে চারুকলার মতো বিভাগে উৎসব কেন্দ্রিক কার্যক্রম তাদের শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে। দীর্ঘদিন পর মূল ক্যাম্পাসে ফিরে বর্ষবরণ আয়োজন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে তাদের শিল্পচর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের এবারের পহেলা বৈশাখ শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং দীর্ঘ আন্দোলন, প্রত্যাবর্তন এবং নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের বর্ষবরণ এক ভিন্ন মাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত