বরিশালে হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যু বাড়ছে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশাল বিভাগে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যখাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুহার দুটোই বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

মৃত শিশুটির নাম আহাদ (৮ মাস)। সে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা ইউসুফের সন্তান। বুধবার (৬ মে) সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে নতুন করে ২৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ২৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে ১৫৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে মোট ১,৬৯৪ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪,১৫৮ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। এই সংখ্যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, আগে হাসপাতালে হাম উপসর্গে শিশু ভর্তির হার কম ছিল এবং মৃত্যুর কোনো ঘটনা ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে এই রোগ মারাত্মক জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি থাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের এলাকায় এখনো অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। ফলে সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তারা মনে করেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, অনেক পরিবার এখনো হাম রোগকে সাধারণ জ্বর-সর্দি হিসেবে মনে করে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে অনেক শিশু দেরিতে হাসপাতালে আসছে, যখন রোগটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের সচেতন করা, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রচার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে।

বরিশালের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ হলেও সময়মতো টিকা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরিশালে হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত