বিপদের মুখে সাহসী উদ্ধার: গভীর সাগরে ভাসতে থাকা ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো কোস্টগার্ড

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ২৫শে জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দিকহারা হয়ে পড়া একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৪ জেলেকে উদ্ধার করে প্রাণ রক্ষা করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মানবিক দায়িত্ববোধ, দ্রুত পদক্ষেপ ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো এ বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধারকৃত ট্রলার ও জেলেদের নোয়াখালীর হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাটে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের কাছে এক স্বস্তির সংবাদ হয়ে এসেছে।

জানা যায়, ‘এফবি জামিলা’ নামের মাছ ধরার ট্রলারটি গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। যাত্রার একদিন পরই ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় গভীর সাগরে ভেসে যেতে থাকে। ওই সময় ট্রলারে থাকা মাঝি-মাল্লারা কোনোভাবে উপকূল কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন, কারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

দিন পেরিয়ে রাত আসলেও সাহায্যের কোনো সাড়া না পেয়ে, তারা দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন। অবশেষে গতকাল বিকেলে দূরবর্তী সমুদ্র এলাকায় দুর্বল নেটওয়ার্ক পেয়ে একজন জেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান। সাথে সাথে ৯৯৯ থেকে বিষয়টি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে জানানো হয় এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কোস্টগার্ডের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। হাতিয়ার পূর্ব উপকূলের গাংগুরিয়ার চর এলাকায় গভীর অনুসন্ধানের পর তারা নিখোঁজ ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং রাতের আঁধারে অভিযান চালিয়ে ১৪ জন জেলেসহ ট্রলারটি উদ্ধার করে। এ সময় ট্রলারে থাকা একজন জেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

উদ্ধার শেষে কোস্টগার্ডের টিম ট্রলারটিকে টেনে নিয়ে আসে সূর্যমুখী ঘাটে এবং জেলেদের পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা চোখে জল নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি, যারা সময়মতো পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবন রক্ষা করেছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক জানান, ‘‘সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় বিপদে পড়া জেলেদের সহায়তা করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি। শুধু উদ্ধার নয়, চোরাচালান, মানবপাচার, জলদস্যুতা এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।’’

উল্লেখ্য, উপকূলবর্তী অঞ্চলে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের ঝুঁকি কমাতে এবং সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এখনো বহু ট্রলারেই নিরাপত্তা ও যোগাযোগ সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে, যা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে উঠে এসেছে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলের মাঝে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—দুর্যোগ ও দুর্ভোগের মুহূর্তে রাষ্ট্রযন্ত্র যথাসম্ভব সক্রিয় রয়েছে, এবং সমুদ্রপথে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একটি অপ্রতিরোধ্য আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে জেলেদের প্রতি শুভেচ্ছা ও কোস্টগার্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হলো, যারা এই সংকটকালীন সময়েও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ নজির স্থাপন করেছেন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com