মালয়েশিয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৪৯ বার
মিয়া গোলাম পরওয়ারের মালয়েশিয়া সফর

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত ও ইসলামী সহযোগিতা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার মধ্যরাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং কূটনৈতিক মহলে কিছুটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফর সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং বক্তব্য উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ’। সেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইসলামী চিন্তা, কৌশলগত সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, সম্মেলনের একটি মূল অধিবেশনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে “এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইসলামী কৌশলগত সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ: অগ্রযাত্রার পথ”। এই অধিবেশনে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা, ইসলামী চিন্তার বিকাশ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য কূটনৈতিক ও বৌদ্ধিক সংযোগ বৃদ্ধির একটি সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রগুলোতে মতবিনিময় ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। দলীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তার মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় পর্যায়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময়ের সুযোগও থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে মালয়েশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যা ইসলামী স্টাডিজ ও নীতিগত গবেষণার জন্য পরিচিত। এখানে বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একত্রিত হয়ে সমসাময়িক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী চিন্তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন।

ঢাকা ত্যাগের আগে মিয়া গোলাম পরওয়ারের সফরকে ঘিরে দলীয় পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার যাত্রার সময় ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর এলাকাটি সাধারণত আন্তর্জাতিক যাত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যাত্রার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

রাজনৈতিক মহলে এই সফরকে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণমূলক সফর, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। আবার কেউ কেউ এটিকে আঞ্চলিক চিন্তাধারা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবে দেখছেন।

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে এ ধরনের সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

সফর শেষে আগামী বিশ মে সকালে মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার এই সফর ঘিরে এখন দলীয় পর্যায়ে অপেক্ষা করা হচ্ছে সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই ধরনের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য শুধু বক্তব্য প্রদানের সুযোগই নয়, বরং বৈশ্বিক নীতি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই মালয়েশিয়া সফর রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে তার বক্তব্য এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ভবিষ্যতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে কি না, তা নিয়ে এখন আগ্রহ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত