ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিবের বিমানে সাইবার হামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিবের বিমানে সাইবার হামলা

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলিকে বহনকারী একটি সরকারি বিমানের ওপর রাশিয়ার সীমান্তবর্তী আকাশপথে জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটেছে, যখন ইউরোপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাশিয়া-নেটো উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে সম্ভাব্য সাইবার হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর পেছনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে), যখন প্রতিরক্ষা সচিব এস্তোনিয়ায় অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেশে ফেরার পথে ছিলেন। বিমানটি রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি আকাশপথ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করে জিপিএস সিগন্যাল বিকল হয়ে পড়ে। তিন ঘণ্টার ওই ফ্লাইটের একটি বড় অংশে নেভিগেশন সিস্টেম অকার্যকর থাকায় পাইলটরা বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানটি নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনেন।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না, বরং পরিকল্পিতভাবে সিগন্যাল জ্যামিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও জন হিলিকে সরাসরি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে কৃষ্ণ সাগর এলাকায় ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি নজরদারি বিমানের কাছাকাছি রুশ যুদ্ধবিমানের বিপজ্জনক উড্ডয়নের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনায় একটি রুশ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ বিমানের এত কাছাকাছি চলে আসে যে তার জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং অটোপাইলট সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। আরেকটি রুশ যুদ্ধবিমান কয়েকবার মাত্র ১৯ ফুট দূর দিয়ে চক্কর দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনাগুলোকে ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক রুশ সামরিক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের আচরণ আকাশপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের কারণ হতে পারে।

জন হিলি ঘটনাটির পর ব্রিটিশ বিমান ক্রুদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতেও তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর সংঘাত শুধু স্থল, জল বা আকাশে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। জিপিএস জ্যামিং, রাডার বিভ্রান্ত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করার মতো কৌশল এখন নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালেও তৎকালীন প্রতিরক্ষা সচিব গ্রান্ট শ্যাপসকে বহনকারী একটি বিমানের জিপিএস সংকেত একইভাবে জ্যাম করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটি একক নয়, বরং ধারাবাহিক একটি প্রবণতার অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ন্যাটো ও পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক বা সরকারি বিমান চলাচলের সময় ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় আকাশসীমার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করা হয়ে থাকে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও পূর্ববর্তী ঘটনার ধারাবাহিকতা মিলিয়ে বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার ও ইলেকট্রনিক হামলা আরও জটিল হতে পারে এবং তা শুধু সামরিক নয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিমান নিরাপত্তা ও সাইবার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিবের বিমানে জিপিএস জ্যামিংয়ের এই ঘটনা শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর সংঘাতের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত