ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখনই নয়: তেহরান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ১২ বার
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখনই নয়: তেহরান

প্রকাশ:  ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা হলেও মূল সিদ্ধান্তগুলো এখনো ঝুলে রয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষর করা “সময়সাপেক্ষ” বিষয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Ismail Baghaei সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে তা চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার ভাষায়, “আমরা কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি, কিন্তু চুক্তি এখনই হচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।”

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত একটি প্রাথমিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubioও সম্প্রতি বলেছিলেন, “খুব শিগগিরই ভালো খবর আসতে পারে।” তবে পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও আলোচনার গতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।

ইরানি মুখপাত্র জানান, দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্যও তৈরি হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তুতি বলা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ইরান প্রথম ধাপে একটি রূপরেখা বা সমঝোতা স্মারক তৈরির পক্ষপাতী, যার ভিত্তিতে পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে এগোনো যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগোলেও আস্থার ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো অমীমাংসিত।

পারমাণবিক ইস্যুতে অবস্থান সবচেয়ে সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানি পক্ষ বলছে, এই বিষয়টি এখন প্রাথমিক রূপরেখার অংশ নয়, বরং পরবর্তী ধাপে আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কাঠামোয় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তবে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স ও তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান এখনো ইউরেনিয়াম মজুত স্থানান্তর বা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং তাদের দাবি, যেকোনো আলোচনা হলে তা সমান ভিত্তিতে এবং পর্যায়ক্রমে হতে হবে।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো ভিন্ন। ইরান বলছে, প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তার নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় থাকবে এবং সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হস্তান্তর করা হবে না।

অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় বড় বাধা হিসেবে রয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের অবরুদ্ধ অর্থ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মুক্ত করতে হবে এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতা হলে ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র অন্তত তাদের জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়েও একটি রূপরেখায় সমাধান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।

লেবানন প্রসঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ সংঘাত পরিস্থিতিও আলোচনার বাইরে নয়। তেহরানপন্থী গণমাধ্যমগুলোর দাবি, যেকোনো চুক্তিতে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তি এখনো অনেক দূরের বিষয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত অগ্রগতি চায়, অন্যদিকে ইরান ধাপে ধাপে এবং শর্তসাপেক্ষ সমঝোতার পথে এগোতে চায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান আলোচনাকে “চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি” বলা হলেও বাস্তবে এখনো বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে আলোচনা আরও দীর্ঘ হতে পারে এবং উভয় পক্ষকেই আরও নমনীয় হতে হবে।

সব মিলিয়ে, ইরানের সর্বশেষ অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি এখনই সম্ভব নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপমাত্র, যেখানে ধীরে ধীরে আস্থা ও সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত