ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী তিন স্বাস্থ্যকর পানীয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী তিন স্বাস্থ্যকর পানীয়

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে ভয়ংকর ও জটিল রোগগুলোর মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, দূষণ, মানসিক চাপ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে স্তন, ফুসফুস, কোলন, প্রস্টেট ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। ফলে অনেক রোগী তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, যখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই হবে না, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয়ও শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি Harvard University-এর গবেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, কিছু প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পানীয় শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে বলছেন, এসব পানীয় কোনোভাবেই ক্যান্সারের ওষুধ নয় এবং এগুলো শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এগুলো শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিকেলের প্রভাব কমাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রি-র‌্যাডিকেল কোষের ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করা শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হতে পারে।

এমন একটি জনপ্রিয় পানীয় হলো মাচা গ্রিন টি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এই পানীয়টির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। মাচা গ্রিন টিতে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল, ক্যাটেচিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং মানসিক সতেজতা বজায় রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এই পানীয়টি তৈরি করতে প্রথমে গরম পানিতে সামান্য ব্রাউন সুগার মিশিয়ে নিতে হয়। এরপর অন্য একটি পাত্রে মাচা চায়ের গুঁড়া ও অল্প গরম পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করা হয়। পরে দুটি মিশ্রণ একসঙ্গে কম আঁচে নেড়ে একটি মসৃণ সবুজ পানীয় তৈরি করা হয়। অনেকে স্বাদের জন্য এর সঙ্গে দুধও যোগ করেন।

আরেকটি উপকারী পানীয় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন সবুজ স্মুদিকে। শাকসবজি ও ফলমূল দিয়ে তৈরি এই পানীয় শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। পালং শাক, শসা, কলা ও আদার সমন্বয়ে তৈরি সবুজ স্মুদিতে থাকে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন এ, সি ও ই, পাশাপাশি আয়রন, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত রাখে।

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সবুজ শাকসবজি খেলে শরীরে প্রদাহ কমতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

সবুজ স্মুদি তৈরি করতে পালং শাক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হয়। এরপর খোসা ছাড়ানো কলা, শসা ও সামান্য আদা কুচি ব্লেন্ডারে একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করা হয়। পরিবেশনের আগে ওপরে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে দিলে স্বাদ আরও বাড়ে।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের আলোচনায় আরেকটি জনপ্রিয় পানীয় হলো হলুদ দুধ। বহু বছর ধরেই উপমহাদেশে এটি ঘরোয়া স্বাস্থ্যপানীয় হিসেবে পরিচিত। হলুদের প্রধান উপাদান কারকিউমিনকে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে শরীরে কারকিউমিনের কার্যকারিতা বাড়ে। কারণ গোলমরিচে থাকা পিপারিন উপাদান কারকিউমিন শোষণে সহায়তা করে। এছাড়া দারচিনি যোগ করলে পানীয়টির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।

এই পানীয় তৈরির জন্য গরম দুধের সঙ্গে হলুদ গুঁড়া, গোটা গোলমরিচ ও দারচিনি ফুটিয়ে নিতে হয়। যাদের গরুর দুধে সমস্যা রয়েছে, তারা আমন্ড মিল্ক বা ওটসের দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না। ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সামগ্রিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন। ধূমপান বর্জন, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, শরীরে অস্বাভাবিক গাঁট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রাকৃতিক পুষ্টিকর পানীয় শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এগুলো কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবু নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ক্যান্সারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত