ইসরাইল ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক চুক্তিতে যাওয়া পাকিস্তানের মৌলিক নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই অবস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হতে হবে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে এই ধরনের সমঝোতা প্রয়োজন।

ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, যারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না, তাদেরকে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে কাজ করছে এবং একটি বড় আঞ্চলিক চুক্তি সময়ের দাবি।

তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানের সবচেয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এসেছে পাকিস্তান থেকে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন এবং সেখানে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই যা দেশের আদর্শের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো প্রশ্নই পাকিস্তানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থান ফিলিস্তিনি ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ইসলামাবাদ বরাবরই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আগে ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আব্রাহাম চুক্তি মূলত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও, ফিলিস্তিনপন্থী দেশগুলো এখনো এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।

ট্রাম্প এবার এই চুক্তিকে আরও বিস্তৃত করে নতুন করে মুসলিম দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলছেন। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরানও যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছায়, তাহলে তারাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে। তবে এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন একটি বৃহৎ কূটনৈতিক সমঝোতা অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এই ধরনের চুক্তিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

পাকিস্তানের অবস্থান এই প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে ইসলামাবাদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাদের এই প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশ যেমন সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডান এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এসব দেশের অবস্থানও সহজ হবে না, কারণ অভ্যন্তরীণ জনমত ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিন ইস্যু এখনো মুসলিম বিশ্বের বড় একটি সংবেদনশীল বিষয়। এই অবস্থায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগ শুধু কূটনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

পাকিস্তানের বর্তমান সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়, বরং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামাবাদ জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিতে আপস করবে না এবং ঐতিহ্যগত অবস্থানেই অটল থাকবে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন জটিল বাস্তবতার মুখে পড়েছে, আর পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান সেই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত