সালাহউদ্দিনের হস্তক্ষেপে বাঁচল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন কোরবানির পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা, ঠিক সেই সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ। নাম তার ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। অদ্ভুত নাম, সাদা রঙের শরীর, আলাদা ধরনের চুল এবং চোখের গঠনের কারণে কয়েক মাস ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত এই মহিষটি শেষ পর্যন্ত কোরবানি হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর হস্তক্ষেপে মহিষটিকে ফেরত নেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জের খামারে।

বুধবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জনমনে অতিরিক্ত আগ্রহ, ভিড় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আপাতত মহিষটি আগের খামারেই থাকবে এবং সেখানেই পরিচর্যা করা হবে।

এই ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে সিদ্ধান্তটিকে ব্যতিক্রমী ও মানবিক হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, একটি পশুকে ঘিরে এমন জনআগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই দেখা গেছে।

আলোচিত এই মহিষটির বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্ম-এ। খামারটির মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে মহিষটির নাম রাখেন ‘ট্রাম্প’। মূলত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে এর চুল ও চোখের কিছুটা মিল থাকায় এমন নামকরণ করা হয়।

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, শুরুতে বিষয়টি ছিল পারিবারিক মজার অংশ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর দেখার জন্য ভিড় করতে শুরু করেন খামারটিতে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। রাজধানীর জিনজিরা এলাকার এক ব্যবসায়ী সামির প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি কিনে নেন। তবে ভাইরাল হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

প্রতিদিন শত শত মানুষ মহিষটিকে দেখতে আসতে থাকেন। শুধু স্থানীয় দর্শনার্থী নন, বরিশাল, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দূরবর্তী জেলা থেকেও কৌতূহলী মানুষ ভিড় করেন খামারে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী এবং পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

খামার মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকেই মহিষটির সঙ্গে ছবি তুলতে চান। কেউ ভিডিও ধারণ করেন আবার কেউ সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও চালান। একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজর রাখতে হয়।

এদিকে দেশীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা AFP এবং Reuters-সহ একাধিক বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম এই ব্যতিক্রমী মহিষ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ফলে বিদেশি পাঠকদের মাঝেও কৌতূহল তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যতিক্রমী কিছু খুব দ্রুত মানুষের মনোযোগ কাড়ে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই অ্যালবিনো মহিষ তারই বড় উদাহরণ। বিরল গঠন, অস্বাভাবিক রঙ এবং আলোচিত নাম—সব মিলিয়ে এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

পশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালবিনো প্রাণী সাধারণত খুবই বিরল। জিনগত পরিবর্তনের কারণে তাদের শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতি থাকে। ফলে চোখ, ত্বক এবং লোমের রঙ আলাদা হয়ে যায়। বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুব কম দেখা যায় বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, মহিষটিকে আপাতত কোরবানি থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন আর শুধু একটি মহিষ নয় বরং এক ধরনের জনপ্রিয় চরিত্রে পরিণত হয়েছে।

তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সামাজিক বাস্তবতার একটি দিকও সামনে এসেছে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বড় আকারের ও ব্যতিক্রমী পশু নিয়ে আগ্রহ দেখা গেলেও এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে সেটি আরও ব্যাপক রূপ পেয়েছে। পশুর নামকরণ, ভিডিও কনটেন্ট এবং ভাইরাল সংস্কৃতি এখন কোরবানির বাজারের অংশ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকে।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত মহিষটিকে বিশেষ যত্নে রাখা হবে। নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

ঈদ সামনে রেখে যখন দেশের পশুর হাটগুলো জমে উঠছে, তখন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষ আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কোরবানি না হলেও বিরল এই মহিষটি ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম আলোচিত পশুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত