জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
  • ৩৫ বার

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় ঈদগাহ ময়দান বৃহস্পতিবার সকালে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে এক ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়। ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে হাত মেলান, কুশল বিনিময় করেন এবং অনেকের সঙ্গে কোলাকুলি করেন বলে জানা যায়। এ সময় পুরো ঈদগাহ এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে সাধারণ মুসল্লিরা নেতাকে কাছ থেকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মালেক। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো মুসল্লি এ জামাতে অংশ নেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ নামাজে এক অনন্য ঐক্যের চিত্র ফুটে ওঠে।

ঈদগাহ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখিত Mohammed Shahabuddin, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দেন।

নামাজ শেষে প্রধান ঈদগাহ এলাকায় মুসল্লিদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর এমন এক বড় ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিতে পেরে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি, আবার কেউ কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ঈদের এই মিলনমেলা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সামাজিক ঐক্যের প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এদিকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে ঈদগাহ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে কঠোর নজরদারি বজায় রাখেন। প্রবেশপথগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চেকপোস্ট স্থাপন করা হয় এবং মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় ও বের হওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ঈদের এই জামাতে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষরা জানান, জাতীয় ঈদগাহে এমন একসঙ্গে নামাজ আদায় করা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়া তাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। অনেকেই বলেন, ঈদ শুধু আনন্দের নয়, এটি পারস্পরিক সম্পর্ক ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ।

ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শান্তি, সহনশীলতা ও উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঈদের এই ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ দেশের সার্বিক সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ঈদুল আজহার এ প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে জাতীয় ঈদগাহের চারপাশে ঈদের আগেই সাজসজ্জা, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ভিন্নমাত্রার প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় ঈদগাহে এমন বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের উপস্থিতি জনগণের সঙ্গে নেতৃত্বের একটি প্রত্যক্ষ সংযোগ তৈরি করে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় সারাদিনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন, কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। জাতীয় ঈদগাহের এ আয়োজন সেই বৃহত্তর সামাজিক আনন্দেরই একটি কেন্দ্রীয় প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত এবারের ঈদুল আজহার নামাজ ও পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঈদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ভবিষ্যতেও জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত