লেবাননে সংঘাত বাড়ছে, নিহত ৩ হাজার ছাড়াল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ৩৬ বার

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ জনে। বৃহস্পতিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানায়, চলমান হামলা ও পাল্টা হামলায় মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটময় হয়ে উঠছে।

১৭ এপ্রিলের পর থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণাঞ্চলে অব্যাহত বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও অবকাঠামো।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে তারা বিপুল সংখ্যক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন “হিজবুল্লাহ সদস্য” নিহত হয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরেও প্রায় ৮০০ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইসরাইলি সামরিক সূত্র আরও জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৪০০টি বিস্ফোরক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে দাবি করা হয়।

লেবানন ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা বাস্তবে কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করছে এবং নিজেদের হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক শাখা লেবাননের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ থেকে সরে আসতে হবে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ইসরাইলকে সামরিকভাবে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে এবং এটি লেবাননের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

সংগঠনটি দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে তারা একদিনে প্রায় ২০টি হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলোকে তারা “প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিল জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে গোলাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু একদিনেই প্রায় ৬৭০টি গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির পর সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়।

এরই মধ্যে রাজধানী বৈরুতের কাছে ইসরাইলি বিমান হামলায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ লেবাননে পৃথক হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চলমান সংঘাত থামাতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনার আগেই সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত এখন শুধু সীমান্ত সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিশেষ করে লেবাননের বেসামরিক জনগণ।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, অব্যাহত বিমান হামলা ও পাল্টা আক্রমণের কারণে লেবাননে মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সীমিত অগ্রগতি—সব মিলিয়ে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত