প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত এবং এর প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনেও ভয়াবহভাবে পড়ছে।
মামদানি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এমন একটি সংঘাত শুরু হয়েছে, যার জন্য জনগণের কোনো সরাসরি মতামত বা গণতান্ত্রিক সম্মতি ছিল না। তিনি বলেন, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের, যারা এ বিষয়ে কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন না।
তিনি দাবি করেন, চলমান সহিংসতায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের হতাহতের বিষয়ও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেন, অনেক সেনাসদস্য আর কখনোই পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন না।
মামদানি আরও সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার মতে, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। তিনি বাজেট ব্যবস্থাপনায়ও এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে মতভেদ ক্রমেই বাড়ছে, যার প্রতিফলন এখন স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্যেও দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন সময়ে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের শান্তির আহ্বান কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ধরনের বক্তব্য নীতিনির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মামদানির এই মন্তব্য। যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।