প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদন স্পটে দেখা গেছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ব্যাপক ভিড়। শহরের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি কাটিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ছুটে গেছেন প্রকৃতির কাছে, আর তাতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চলগুলোতে।
সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। কলাতলী, লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্টে সকাল থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে পা ভেজাচ্ছেন, কেউবা পরিবার নিয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সমুদ্রের বিস্তীর্ণ সৌন্দর্যে হারিয়ে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও তা পুরোপুরি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলোতে গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। তবে তারা মনে করছেন, ছুটির শেষ দিকে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতেও পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র ও জেলা পরিষদ পার্কে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। বান্দরবানের নীলাচল ও মেঘলা পর্যটন স্পটেও ছিল ভ্রমণপ্রেমীদের উপচে পড়া উপস্থিতি। একইভাবে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক ও সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের আগমন বেড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটি তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পর্যটকের আগমনে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সিলেটের জাফলং, বিছানাকান্দি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক স্পটেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ভিড়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতেও অনেকে ঈদের ছুটি কাটাতে ভিড় করেছেন। পরিবার নিয়ে সময় কাটানো, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ এবং ভ্রমণের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ঈদের ছুটি রূপ নিয়েছে এক ভিন্ন আবহে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে উৎসবের সময়গুলোতে এর প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং সেবার মান উন্নয়ন করা গেলে এই খাত আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটি দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এনেছে প্রাণচাঞ্চল্য, আর ভ্রমণপিপাসু মানুষের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র থেকে পাহাড়—সব গন্তব্য।