সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

জিয়াউর রহমানের ২০টি মাইলফলক তুলে ধরলেন মাহদী আমিন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার গৌরবময় রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে পুরো জাতি। এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের আধুনিক রূপান্তর ও রাষ্ট্রগঠনে শহীদ জিয়ার অনন্য ও ঐতিহাসিক ২০টি মাইলফলকের কথা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও তথ্যবহুল স্ট্যাটাসে তিনি এই যুগান্তকারী অর্জনগুলো বর্ণনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার এই তরুণ উপদেষ্টা বর্তমানে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই প্রভাবশালী মুখপাত্রের স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর পরই তা ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে।

মাহদী আমিন তার দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসের শুরুতেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, জিয়াউর রহমানের ঝুলিতে থাকা অনন্য সব অর্জনের মধ্যে যেকোনো একটি মাত্র অর্জন যদি কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের থাকত, তবে তাকে নির্দ্বিধায় একজন সফল ও সার্থক নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা যেত। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন ক্ষণজন্মা ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যার জীবনে গৌরবের এমন অসংখ্য মহিমান্বিত পালক একত্রে বিদ্যমান ছিল।

উপদেষ্টা তার গভীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা থেকে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো নজির বা উদাহরণ খুঁজে পাওয়া ভার, যেখানে একজন নেতা নিজ দেশের জন্য এমন বহুমাত্রিক ও বহুমুখী ভূমিকা রেখে নিজেকে সমগ্র জাতির সত্তা, অস্তিত্ব, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের এক জীবন্ত প্রতীকে পরিণত করতে পেরেছেন। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই মূলত একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছিল।

বাংলাদেশের সামগ্রিক রূপান্তরে শহীদ জিয়ার প্রথম ও প্রধান মাইলফলক হিসেবে মাহদী আমিন তার স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণার কথা স্মরণ করেন, যার বজ্রকণ্ঠে অনুপ্রাণিত হয়ে সাধারণ মানুষ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এরপর সশস্ত্র লড়াইয়ের ময়দানে সম্মুখ সমরে থেকে জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাব অর্জন ছিল তার অন্যতম এক গৌরব।

সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের হাল ধরা জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সফল রাষ্ট্রপতি। তিনি সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর এক সুমহান ও সর্বজনীন আদর্শের প্রবর্তন করেছিলেন, যা দেশের প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, মত ও অঞ্চলের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিল। দেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছিল তার অন্যতম সেরা রাজনৈতিক কীর্তি।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে প্রথম মুক্তবাজার অর্থনীতির দুয়ার খুলে দেন এবং বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলেন। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতির দুই প্রধান চালিকাশক্তি—রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের জনশক্তি রপ্তানি, এই দুই খাতেরই মূল কারিগর ও দূরদর্শী রূপকার ছিলেন জিয়াউর রহমান।

গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে তার গৃহীত ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি, গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা প্রকল্প, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগগুলো টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণ করেছিল। এছাড়া নারী ও যুবকদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে পৃথক দুটি মন্ত্রণালয় গঠন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিশু একাডেমি ও জাতীয় ভিত্তিক নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার প্রবর্তন ছিল তার সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গঠনে জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্কের মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। তার দক্ষ ও দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই বাংলাদেশ তৎকালীন সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মর্যাদাপূর্ণ সদস্যপদ লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক নানা সংকটে, বিশেষ করে ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে আল-কুদস কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো শক্তির কাছে মাথা নত না করে সীমান্তে শক্তিশালী অবস্থান ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে অত্যন্ত সাহসী ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই কালজয়ী অর্জনগুলো কেবল জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সাফল্যের স্মারক নয়, বরং এগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা সুদৃঢ় করার এক জীবন্ত ইতিহাস। তার সেই যুগান্তকারী কর্ম, পরিকল্পনা ও অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব আজও কোটি কোটি দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস হিসেবে কাজ করছে।

শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই দেশপ্রেমের রাজনীতি ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান সময়ে জনগণের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাফল্যের সাথে বহন করে চলেছেন। এই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াই এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত