প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। রাস্তায় গণপরিবহনের চিরচেনা জটলা নেই, নেই কালো ধোঁয়ার দাপট। একই সাথে উৎসবের দিনগুলোতে শহরের বড় বড় নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বাতাসে ধূলিকণার ওড়াউড়িও বেশ কমে এসেছে। তদুপরি, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে রাজধানীজুড়ে দফায় দফায় হওয়া টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রাস্তাঘাটের জমে থাকা ধুলাবালি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। যার ফলে ঢাকার চেনা বাতাস কিছুটা হলেও সহনীয় ও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে এতসব ইতিবাচক পরিবর্তনের পরও মেগাসিটি ঢাকার বাতাস দূষণের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। বৈশ্বিক বায়ুদূষণের তালিকায় এখনো প্রথম সারিতেই অবস্থান করছে বাংলাদেশের এই প্রধান নগরী।
রবিবার ৩১ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই সূচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাবাসীর জন্য বাতাসের মান খুব একটা সন্তোষজনক নয়। আজ সকালের রিডিংয়ে ঢাকার দূষণের মাত্রা বা স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১০৭। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান ১২৭টি শহরের বৈশ্বিক তালিকায় আজ ঢাকা ৯ম অবস্থানে রয়েছে। বাতাসের এই মানকে একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী ‘বিশেষ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যানবাহন ও মানুষের কোলাহল কম থাকার পরও ঢাকার এই অবস্থান পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আজকের বৈশ্বিক তালিকায় বায়ুদূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে আফ্রিকান দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা। শহরটির বাতাস আজ সকাল থেকেই চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় রয়েছে এবং একিউআই সূচকে এর স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৭৩, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। দূষণের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গ, যার বায়ুমানের স্কোর ১৬৩। এরপর ১৫৬ স্কোর নিয়ে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা ১৩৪ স্কোর নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। সমপরিমাণ অর্থাৎ ১৩৪ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান শহর লাহোর রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর যদি ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে, তবে সেই বাতাসকে ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে তা শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের বাইরে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এছাড়া একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে হলে তা সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা নগরবাসীর জন্য মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
ঈদের এই অলস দিনগুলোতে ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নত হলেও, ছুটি শেষে যখন অফিস-আদালত পুরোপুরি খুলে যাবে এবং কলকারখানা ও গণপরিবহন আবার পুরোদমে সচল হবে, তখন বায়ুদূষণ আবারও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের বাতাসকে দীর্ঘমেয়াদে দূষণমুক্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ রাখতে হলে কেবল উৎসবের ছুটির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বরং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের বড় নির্মাণকাজ চলাকালীন নিয়মিত পানি ছিটানোসহ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি পদক্ষেপের কঠোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।