সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

বন্ধ শিল্প চালুর পথে বড় আশা: ৭ শতাংশ সুদে ২০০ কোটি ঋণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার
বন্ধ শিল্প চালুর পথে বড় আশা: ৭ শতাংশ সুদে ২০০ কোটি ঋণ

প্রকাশ: ০৫ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে এক সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ঝিমিয়ে পড়া বৃহৎ শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। বর্তমান উচ্চ সুদহারের বাজারে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ সুবিধা দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য এক পরম আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে পাঠানোর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রণোদনা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। সামগ্রিকভাবে ৬০ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এই উদ্যোগটি মূলত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় যখন ব্যাংক ঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৪ শতাংশের ঘরে ওঠানামা করছে, তখন ৭ শতাংশ সুদে ঋণ প্রাপ্তি কেবল শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন খরচই কমাবে না, বরং সামগ্রিক বাজারে সুদহারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান কর্তৃক গৃহীত এই উদ্যোগটি ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহের জন্ম দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো একটি কোম্পানি বা শিল্প গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। এই ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যেখানে ব্যাংকগুলোকে ঋণের টাকা বিতরণে এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এই বিশেষ তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো এমন সব প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা, যাদের কাছে উন্নত যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেবল চলতি মূলধনের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই বর্তমানে অর্থাভাবে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না, যা দেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন এই স্কিমের মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফেরার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া কোনো দক্ষ উদ্যোক্তা যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই সুবিধার আওতায় আসবে।

তবে এই বড় উদ্যোগের স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর শর্তারোপ করেছে। অর্থ পাচার, ঋণ জালিয়াতি বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না। এছাড়া ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী ঋণখেলাপি হওয়া যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান প্রশংসার দাবি রাখে। ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের চেয়েও বড় বিষয় হলো খেলাপি সংস্কৃতির বাইরে থাকা সৎ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। যারা তাদের ঋণের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রকৃত অবদান রাখবে, সরকার তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ও তদারকির জন্য ব্যাংকগুলোকে ত্রিমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংকের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করবেন। এর বাইরেও বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় সরাসরি কারখানা পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করার অধিকার রাখে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং দণ্ডস্বরূপ অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ আরোপ করা হবে। এই কড়াকড়ি ব্যবস্থা ঋণের অপব্যবহার রোধে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

শিল্প খাতের এই প্রাণসঞ্চারী উদ্যোগ কেবল মালিকদের লাভবান করবে না, বরং এর সাথে জড়িয়ে থাকা হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। একটি বন্ধ শিল্পকারখানা খুলে যাওয়া মানে হলো কয়েকশ পরিবারের অভাব মোচন হওয়া এবং দেশের উৎপাদনমুখী শক্তির নতুন করে জেগে ওঠা। করোনাকালীন ধাক্কা ও পরবর্তী বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধুঁকছিল, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। প্রাক-অর্থায়ন তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে তা ৭ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে, যা এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে।

পরিশেষে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এই প্রণোদনা প্রকল্পটি একটি অগ্নিপরীক্ষার মতো। সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ যদি সঠিক পথে ব্যয় হয় এবং সত্যিকার অর্থেই বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে পারে, তবে তা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। দেশের শিল্পনীতি অনুযায়ী বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই সুফল কাজে লাগিয়ে যদি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তবে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আমরা রপ্তানি বাজারে বড় সফলতা অর্জন করতে পারব। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আজ পুরো জাতি, যা আমাদের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত