সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: সরকারের দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের চাহিদা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটেছে বলে দাবি করেছে সরকার। বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং উৎপাদনশীল খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং শিল্পখাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন অংশীদার, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব পরামর্শ বিবেচনায় এনে কর কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি অব্যাহত রাখা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। সরকারের মতে, বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে বাজেট নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠন মনে করছে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো দেশের মানুষের প্রধান উদ্বেগ। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ শৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক সময় বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দুর্বল তদারকির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাই এবারের বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর কাঠামো আরও সহজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা। বাজেটে এসব বিষয়ে কিছু উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তব ফলাফল দেখতে সময় লাগবে।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আরও শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি জাতীয় বাজেট কখনোই সব শ্রেণির মানুষের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ করতে পারে না। তবে সরকারের দাবি অনুযায়ী, এবারের বাজেট দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, উন্নয়ন লক্ষ্য এবং জনকল্যাণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবে, তা নির্ভর করবে আগামী অর্থবছরে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, বাজার পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর। তবে সরকারের দৃঢ় অবস্থান হলো—এ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত