সর্বশেষ :
মালদ্বীপে রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় পাঠানোর সুযোগ নিয়ে বৈঠক তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা ‘এটা ঘটবেই’: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শক পাঠানো হবে, জানাল আইএইএ ২৪ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েও হামের টিকা পায়নি অনেক শিশু, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে শোকে ভারী জনপদ সঠিক নীতিসহায়তা পেলে রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ

মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডে তিনটি গরু পুড়ে মারা গেছে। একই ঘটনায় গবাদিপশু রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এক তরুণ কৃষক। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের বহু বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতের শেষ প্রহরে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গোয়ালঘর ও পাশের রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক রুবেল তালুকদার প্রতিদিনের মতো সেদিনও গরুগুলোকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে গোয়ালঘরে একটি কয়েল জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ আগুনের তীব্র আলো ও ধোঁয়া দেখে তাদের ঘুম ভাঙে। বাইরে বেরিয়ে তারা দেখতে পান, গোয়ালঘরে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে।

পরিবারের সদস্যরা এবং আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গোয়ালঘর আগুনে গ্রাস করে। ভেতরে থাকা গবাদিপশুগুলোকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন কৃষক রুবেল তালুকদার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুনের মধ্যে ঢুকে গরুগুলোকে বের করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু আগুনের তাপ ও ধোঁয়ার কারণে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। এরপরও শেষ পর্যন্ত সব পশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলেই তিনটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। আরও দুটি গরু মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গরুগুলোই ছিল পরিবারের প্রধান সম্পদ এবং জীবিকার অন্যতম উৎস। এই ক্ষতির ফলে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

গুরুতর আহত রুবেল তালুকদারকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, আগুনে শুধু গরুই নয়, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রীও পুড়ে গেছে। ফলে পরিবারটি এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেশীরাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় মশার কয়েল, কুপি কিংবা খোলা আগুন ব্যবহার করার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে খড়, কাঠ ও দাহ্য উপকরণে তৈরি গোয়ালঘরে আগুনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আহত কৃষকের চিকিৎসা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি কৃষক পরিবারের জন্য গবাদিপশু শুধু সম্পদ নয়, বরং জীবন ও জীবিকার অবলম্বন। তাই এই দুর্ঘটনা পরিবারটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে।

মির্জাগঞ্জের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও গ্রামীণ এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং আহত কৃষকের সুস্থতার জন্য স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও সহমর্মিতা দেখা গেছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত