দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের লক্ষ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী। দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই নেতা উষ্ণ কূটনৈতিক পরিবেশে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় উঠে আসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা।
সাক্ষাৎকালে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তাদের দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে উভয় দেশেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে নতুন বাজার সৃষ্টি হবে এবং রফতানি খাত আরও বিস্তৃত হবে।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। কাজাখস্তান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও মতবিনিময় হয়। কাজাখস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয়ে উভয়পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
এছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ ও লজিস্টিক উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ট্রান্স-ইউরেশিয়ান বাণিজ্য করিডোর ও দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে মধ্য এশিয়ার সংযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
দুই নেতা পারস্পরিক সফর বিনিময় এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন। তারা মনে করেন, নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্ক সম্প্রসারণ হলে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশও এই নতুন কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে দুই পক্ষই ভবিষ্যতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমান ও কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।