প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের এই সূচনাকে ঘিরে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন বিভাগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, আন্তরিক অভ্যর্থনা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য দিকনির্দেশনা দেন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা।
নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন সম্ভাবনাকে ঘিরে দিনটি ছিল নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যায় প্রাণচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করেন। অনেকের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকেরাও, যারা সন্তানের নতুন জীবনের সূচনা মুহূর্তটি কাছ থেকে উপভোগ করেন।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, বরং একজন দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। পরিবার থেকে দূরে এসে অনেক শিক্ষার্থী নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে এবং অভিভাবকের মতো সহযোগিতা করবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানও নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত শিক্ষাঙ্গন, যেখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে প্রশাসনের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়েও প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার পরামর্শ দেন।
শিক্ষকদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার গুরুত্ব। তারা বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা, ভাষাগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলীতেও নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় সফল হতে পারবে।
নবাগত শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন নিয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, নতুন বন্ধু, নতুন শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। অনেকেই জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন। তারা নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, নবীনবরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে যায় যে তারা একটি নিরাপদ, সহায়ক এবং জ্ঞানচর্চাবান্ধব পরিবেশে শিক্ষাজীবন শুরু করতে যাচ্ছে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেও সেই ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা।
নবীনদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, শিক্ষকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে দিনব্যাপী মুখর ছিল গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস। নতুন শিক্ষাবর্ষের এই যাত্রা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু একটি শিক্ষাজীবনের সূচনা নয়, বরং স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং আত্মবিশ্বাসের নতুন অধ্যায়েরও সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।