ভেঙে গেল ঊর্মিলা-আদীনাথের ১৫ বছরের দাম্পত্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ বার
ভেঙে গেল ঊর্মিলা-আদীনাথের ১৫ বছরের দাম্পত্য

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের অবসান ঘটালেন মারাঠি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকর। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও অবশেষে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন দুই শিল্পী। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত এই কঠিন সময়ে তাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সংবাদমাধ্যম, ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তারা।

ভারতের মারাঠি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত এই তারকা দম্পতির বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বহু বছর ধরে একসঙ্গে পথচলা, সফল পারিবারিক জীবন এবং চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে আদীনাথ ও ঊর্মিলাকে আদর্শ দম্পতি হিসেবেই দেখতেন অনেক ভক্ত। ফলে তাদের এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে নিজেদের বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো তাড়াহুড়ো করে নেওয়া হয়নি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তাভাবনা ও পারস্পরিক আলোচনার পর তারা সম্মানজনকভাবে পৃথক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

যৌথ বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, দাম্পত্যজীবনের সমাপ্তি ঘটলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তারা তুলে ধরেছেন তাদের একমাত্র কন্যা জিজাহকে। আদীনাথ ও ঊর্মিলা জানিয়েছেন, মেয়ের ভবিষ্যৎ, মানসিক সুস্থতা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব। সে কারণে যৌথভাবেই সন্তানের লালন-পালন করবেন এবং জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাবা-মা হিসেবে তার পাশে থাকবেন।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, একসঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি তাদের কাছে সবসময় মূল্যবান হয়ে থাকবে। জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু হলেও অতীতের সম্পর্ককে তারা সম্মানের সঙ্গেই স্মরণ করতে চান। একই সঙ্গে এতদিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও ভক্তদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সমর্থন এবং শুভকামনা পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও সেই আন্তরিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই তারকা জুটি।

তারা স্পষ্টভাবে জানান, এই বিষয়টি নিয়ে এটিই তাদের একমাত্র আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। এরপর আর কোনো ধরনের মন্তব্য করবেন না বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সবাইকে তাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচ্ছেদের মতো সংবেদনশীল একটি সময়ে অযাচিত জল্পনা-কল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আলোচনা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

গত কয়েক মাস ধরেই আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকরের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, তারা আলাদা বসবাস করছেন এবং দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে সেই সময় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি দুই শিল্পীর কেউই। ফলে বিষয়টি গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অবশেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন তারা।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ঊর্মিলা কানেটকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও নেতিবাচক আলোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সব তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথাকথিত ‘বিষাক্ত’ আলোচনাকে তিনি গুরুত্ব দেন না। সেই বক্তব্যের পরও তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা অব্যাহত ছিল। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কখনোই প্রকাশ্যে বিতর্কে জড়াতে চাননি এই অভিনেত্রী।

আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকরের পরিচয়ের গল্পও মারাঠি চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত। ২০০৬ সালে ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রথম তাদের পরিচয় হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আদীনাথের বাবা ও জনপ্রিয় নির্মাতা মহেশ কোথারে। সেই সিনেমার মাধ্যমেই অভিনয়জগতে অভিষেক ঘটে ঊর্মিলার। কাজের সূত্রে পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে এবং পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দীর্ঘ কয়েক বছর প্রেমের পর ২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। ২০১৮ সালে জন্ম হয় তাদের কন্যা জিজাহর। এরপর পরিবার ও পেশাগত জীবন সমানতালে সামলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এই তারকা দম্পতি।

অভিনয়জীবনে ঊর্মিলা কানেটকর মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘দুনিয়াদারি’, ‘মালা আই ভ্হায়চি!’ এবং ‘তি সধ্যা কায় কারতে’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। মারাঠি সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি ও তেলেগু ভাষার চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। তার অভিনয় দক্ষতা, পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্র নির্বাচনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের কাছে সমাদৃত।

অন্যদিকে আদীনাথ কোথারে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। মারাঠি চলচ্চিত্র শিল্পে বহুমাত্রিক প্রতিভার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ ও প্রযোজনায়ও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিক বড় বাজেটের এবং বহুল আলোচিত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বর্তমানে আদীনাথ কোথারের হাতে রয়েছে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ’ চলচ্চিত্র, যেখানে তিনি ভরত চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ছবিকে ঘিরে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক হানসাল মেহতার ‘গান্ধী টকস’ চলচ্চিত্রেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তন এলেও পেশাগত ব্যস্ততা আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে তার।

বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, গুঞ্জন এবং বিচ্ছেদের খবর মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় যাচাইবাছাই ছাড়াই নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। আদীনাথ ও ঊর্মিলার যৌথ বিবৃতিতেও সেই বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তারা চান, তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা ও অনুমাননির্ভর আলোচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হোক।

১৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের সমাপ্তি নিঃসন্দেহে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের শেষ। তবে তারা যে পরিণত ও সম্মানজনক উপায়ে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেছেন এবং সন্তানের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, সেটি অনেকের কাছেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ এবং সন্তানের প্রতি সমান অঙ্গীকার বজায় রাখার যে বার্তা তারা দিয়েছেন, তা ভক্তদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত