চট্টগ্রামের বাজারে পেঁয়াজ-আদার ঊর্ধ্বগতি, কিছুটা স্বস্তি রসুনে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩২ বার

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ও আদার দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে রসুনের দামে, যা সামান্য পরিমাণে কমেছে। বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আমদানি সংকট, কৃষক পর্যায়ে মজুদ ও চাহিদা-জোগানের বৈষম্য।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ এবং এর আশপাশের আড়তগুলোতে পেঁয়াজের দাম বিগত এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, যা খুচরা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। অথচ জুলাই মাসের শুরুতে একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ৪৭ থেকে ৫২ টাকা দরে। জুন মাসে দাম ছিল আরও কম—৪২ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমদানি পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। এখন পুরোটাই দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কৃষকদের কাছে মজুদ আছে ঠিকই, কিন্তু তারা দাম ছাড়ছেন না। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দামও বাড়ছে।”

মুদিপণ্যের পাইকারি ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান খালেদ জানান, পেঁয়াজের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়, ফলে দাম আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, “আমদানির অনুমতি দ্রুত না পেলে বাজার স্থিতিশীল হবে না। তবে এখনকার পরিস্থিতিতে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন, যদিও ভোক্তাদের জন্য তা চাপের কারণ।”

পেঁয়াজের পাশাপাশি আদার দামেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি আদার দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে যেসব আদা বিক্রি হতো ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়, তা এখন ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি নিম্নমানের আদাও বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ১১০ টাকার আশপাশে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় লোকসানে বিক্রি হওয়ার পর আদার দাম কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে।

এই অবস্থায় পেঁয়াজ কিনতে আসা মুদিপণ্য দোকানদারদের জন্য বিষয়টি হয়ে উঠেছে বাড়তি চাপের। চকবাজার এলাকার এক দোকানি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “পেঁয়াজ যেহেতু বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু ক্রেতারা বারবার জানতে চাচ্ছেন, কবে দাম কমবে। সবচেয়ে ভালো অবস্থা হতো যদি দাম আবার ৪০–৫০ টাকার মধ্যে থাকত।”

অন্যদিকে রসুনের দামে দেখা গেছে উল্টো প্রবণতা। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকায়, তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১১০ থেকে ১১২ টাকায়। চাহিদা কম থাকায় সরবরাহ বাড়লেও বাজারে দাম পড়তি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী আহসান খালেদ বলেন, “চাহিদার তুলনায় রসুনের সরবরাহ বেশি, তাই দাম কমছে। যদিও কিছুদিন আগে রসুনের দাম ছিল অনেক বেশি, এখন তার কিছুটা ভারসাম্য এসেছে।”

মসলাজাতীয় পণ্যের এ দামের তারতম্য প্রভাব ফেলছে খুচরা বাজারে এবং সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য বাজেটে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি কার্যক্রম দ্রুত চালু না হলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে সামনে ঈদ বা উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে মূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে।

এই মুহূর্তে চট্টগ্রামের বাজারে পেঁয়াজ-আদার উর্ধ্বমুখী গতি ও রসুনের নিম্নমুখী প্রবণতা সামগ্রিক বাজারচিত্রে এক বৈচিত্র্যময় বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেড়েছে ভোগান্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত