মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের স্বপ্নে নতুন আশার আলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার
মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের স্বপ্নে নতুন আশার আলো

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এসেছে গুরুত্বপূর্ণ এক সুখবর। মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের আয়োজক কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই সম্মানজনক পুরস্কার জিততে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেললেও নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসির সম্ভাবনা অটুট রয়েছে।

এই ব্যাখ্যার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের ধারণা ছিল, ইউরোপের বাইরে খেললে ব্যালন ডি’অর জেতা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ফুটবলারদের আধিপত্যের কারণে এমন ধারণা আরও দৃঢ় হয়েছিল। তবে আয়োজকদের সর্বশেষ ব্যাখ্যা সেই প্রচলিত ধারণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছে।

বিশ্বকাপের মহারণ এখন শেষ পর্যায়ে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর রবিবার অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল, যেখানে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে স্পেনের। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আয়োজকদের এই ঘোষণা মেসির সম্ভাবনাকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে পুরস্কারের ইতিহাস তুলে ধরে জানিয়েছে, শুরুতে এই সম্মাননা শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। পরে ১৯৯৫ সালে নিয়ম পরিবর্তন করে বিশ্বের যেকোনো দেশের ফুটবলারকে বিবেচনায় আনা হলেও তখনও শর্ত ছিল, তাকে অবশ্যই ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলতে হবে। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করা হয়। এরপর থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেললেও একজন ফুটবলার ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

আয়োজকরা আরও জানিয়েছে, গত ১৮টি ব্যালন ডি’অর আসরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই সে সময় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি এবং উসমান দেম্বেলের মতো বিজয়ীরাও ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলছিলেন। ফলে বাস্তবে ইউরোপের ক্লাবগুলো থেকে বিজয়ী বেশি এলেও নিয়মের দিক থেকে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন পুরুষ ফুটবলার ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, আর তিনি লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ৬৭তম ব্যালন ডি’অর জয়ের সময় তিনি ইতোমধ্যেই ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড় ছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের বাইরে খেলেও এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ের নজির গড়েন।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা একজন ফুটবলার, যদি সারা বছরের পারফরম্যান্সে নিজেকে সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনিও এই পুরস্কার জয়ের দাবিদার হতে পারেন। এই ব্যাখ্যাই মূলত মেসির বর্তমান অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স তার প্রতিভাকে থামাতে পারেনি। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে আটটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও চারটি গোল করিয়েছেন। গোল করার পাশাপাশি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গঠন এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তিনি আবারও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

মেসির নেতৃত্বেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারও দলকে শিরোপার খুব কাছে নিয়ে এসেছেন তিনি। যদি ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দিতে পারেন এবং নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সক্ষম হন, তাহলে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

যদিও ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে শুধু বিশ্বকাপ নয়, পুরো মৌসুমজুড়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করা হয়। তবু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রায়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে।

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসি নিয়মিত খেলছেন এবং মেজর লিগ সকারে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও তার জনপ্রিয়তা কিংবা পারফরম্যান্সে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং নতুন পরিবেশেও তিনি নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছেন।

ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা শুধু মেসির জন্যই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলা অন্যান্য তারকা ফুটবলারদের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর ফলে ইউরোপের বাইরের লিগগুলোর প্রতিযোগিতামূলক মান এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাও নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে এই ঘোষণায় ফুটবল বিশ্বে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি রবিবারের মহারণে। স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে যদি মেসি আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেন, তাহলে ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে নবমবারের মতো নিজের নাম লেখানোর পথে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন। আর সেটি হলে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের কিংবদন্তি অধ্যায়কে আরও সমৃদ্ধ করবেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত