নতুন নৌপ্রধান মিসবাহ উল আজীমকে র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার
নতুন নৌপ্রধান মিসবাহ উল আজীমকে র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নতুন নৌপ্রধান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই র‍্যাংক ব্যাজ পরানো হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই দায়িত্ব হস্তান্তরের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নতুন নৌপ্রধানের কাঁধে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সামরিক ঐতিহ্যে বাহিনী প্রধানদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পদমর্যাদার র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার এই আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পদোন্নতি নয়; বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও দায়িত্ব অর্পণের প্রতীক। এই দায়িত্বের মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা, নৌ-সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নৌবাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম জে আরিফ বেগ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর, যা ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই থেকে কার্যকর হয়ে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমা, সমুদ্রসম্পদ, বাণিজ্যিক নৌপথ এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক মহড়ায় অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, যুদ্ধজাহাজ ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়গুলো এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন নৌপ্রধানের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচি আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম দীর্ঘ সামরিক জীবনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে তার অভিজ্ঞতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে নৌবাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তার মেয়াদকালে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংযোজন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নৌবাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা নীতির বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জড়িত থাকে। তাই নতুন নৌপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণকে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, মেরিটাইম পেট্রোল সক্ষমতা, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির বাস্তবায়নে নতুন নৌপ্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি দক্ষ ও সক্ষম নৌবাহিনী গড়ে তোলার সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নেও নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত