জীবননগর সীমান্তে পুশইনের দাবি, নিখোঁজ ৫ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
জীবননগর সীমান্তে পুশইনের দাবি, নিখোঁজ ৫ জন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাতজন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বলে দাবি উঠেছে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পুশইনের আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন একটি এলাকা দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় বলে দাবি করেন তাদের মধ্যে থাকা দুই ব্যক্তি। তারা হলেন খুলনা জেলার দুই ভাই আমিনুর রহমান ও খলিলুর রহমান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে মাটিয়ারি সীমান্ত এলাকা, যা তারা ‘পাটোয়ারি’ নামে উল্লেখ করেছেন, সেখান দিয়ে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তবে বিজিবি জানিয়েছে, জীবননগর সীমান্তের আশপাশে ‘পাটোয়ারি’ নামে কোনো সীমান্ত এলাকা তাদের জানা নেই। ফলে ঘটনাস্থল ও পুশইনের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে।

আমিনুর রহমান ও খলিলুর রহমান জানান, প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তাদের অন্য কয়েকজনের সঙ্গে রাখা হয়। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে মোট সাতজনকে সীমান্তের দিকে নিয়ে এসে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তারা বিজিবি কিংবা পুলিশের কোনো সদস্যের মুখোমুখি হননি। সীমান্ত অতিক্রমের পর সবাই ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাঁচজন কোথায় চলে গেছেন, সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। তাদের ভাষায়, অন্ধকার ও ভোরের আলো ফোটার আগের পরিস্থিতিতে কে কোন দিকে চলে গেছেন, তা বোঝার সুযোগ ছিল না। ফলে ওই পাঁচজনের পরিচয়, অবস্থান কিংবা গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তারা।

ঘটনাটি সামনে আসার পর সীমান্ত এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ একাধিকবার সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিটি ঘটনায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যায়। ফলে কোনো ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন সীমান্ত বিষয়ক বিশ্লেষকেরা।

মহেশপুর-৫৮ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত পুশইনের কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তিনি জানান, ‘পাটোয়ারি’ নামে জীবননগরের আশপাশে কোনো সীমান্ত চিহ্নিত নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথা থেকে ওই দুই ব্যক্তি এসেছেন, কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন এবং তাদের দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে কোনো ব্যক্তিকে নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া ফেরত পাঠানোর অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি এবং দুই দেশের বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে যেকোনো পুশইনের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে বৈধ যাতায়াতের পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার খবর সময়ে সময়ে সামনে আসে। ফলে যেকোনো নতুন ঘটনার পর বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সাধারণত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।

এদিকে দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই দেশে ফিরে আসার ঘটনায় তারা বিস্মিত। পরিবারের দাবি, যদি সত্যিই তাদের পুশইন করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচজনের অবস্থানও দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তঘটিত যেকোনো ঘটনায় গুজব বা অসমর্থিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি। তদন্তে যদি পুশইনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে বিষয়টি দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক আলোচনায়ও গুরুত্ব পেতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিজিবির যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ বলে দাবি করা পাঁচজনের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুশইনের দাবিকে নিশ্চিত বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত