তাড়াশে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল মাছ ব্যবসায়ীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার
তাড়াশে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল মাছ ব্যবসায়ীর

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবু বক্কর (৫৮) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নিমগাছী বাজার এলাকায় দ্রুতগতির একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আবু বক্কর স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং সহকর্মী ব্যবসায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো এদিনও আবু বক্কর মাছ কেনার উদ্দেশ্যে নিমগাছী বাজারে এসেছিলেন। বাজার এলাকায় অবস্থান করার সময় দ্রুতগতির একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়।

নিহত আবু বক্কর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আরঙ্গাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মইর আলী আকন্দের বড় ছেলে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসা করে পরিবার পরিচালনা করছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহতের বড় ছেলে আব্দুল জলিল জানান, তার বাবা প্রতিদিনের মতো মাছ কেনার জন্য নিমগাছী বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই দ্রুতগতির একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। হঠাৎ করে পরিবারের অভিভাবককে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিমগাছী বাজার এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ কেনাবেচার কাজে আসেন। বাজারসংলগ্ন সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলও অনেক বেশি। অনেক সময় দ্রুতগতিতে ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, বাজার এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে চালকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় জননিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং বাজারসংলগ্ন এলাকায় দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের কারণে প্রাণহানির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বারবার বলছে, অতিরিক্ত গতি, অসতর্ক চালনা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের আশা, আবু বক্করের মৃত্যুর ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিমগাছী বাজার এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। পরিবার, স্বজন এবং সহকর্মীরা নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন গতির মূল্য কখনও কখনও একটি পরিবারের জন্য আজীবনের শোক হয়ে দাঁড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত