সীমান্ত অভিযানে ৩০ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
সীমান্ত অভিযানে ৩০ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে চোরাচালান প্রতিরোধে চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে ভারতীয় খাদ্যপণ্য, পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, গবাদিপশু, মাদক এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনার চেষ্টা করা বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযান সীমান্তে চোরাচালান রোধে বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদারেরই প্রতিফলন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কাজিয়াতলী, মাদলা ও খাদলা সীমান্ত এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদানদী ও শশীদল সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযান পরিচালনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) সদস্যরা।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য পাচারের প্রস্তুতির বিষয়ে আগে থেকেই তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে বিশেষ টহল ও ওত পেতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।

বিজিবির তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বাসমতি চাল, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, স্টেরিল নোরাড্রেন্যালিন কনসেন্ট্র্যাট আইপি ওষুধ, গরু, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চকলেট, পটকা, পন্ডস পাউডার, ভ্যাসমল, মদ, বিয়ার এবং ইয়াবা ট্যাবলেট। জব্দকৃত পণ্যের মোট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৫৫০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, ওষুধ, মাদক ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য পাচারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠায় সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের বিভিন্ন অরক্ষিত স্থান ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র মাঝে মধ্যেই ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশি পণ্য ভারতে পাচারের চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে এসব চক্রের কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও তারা কৌশল পরিবর্তন করে নতুন নতুন রুট ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, বরং এটি বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন ওষুধ, মাদক এবং বিস্ফোরকজাতীয় পণ্য জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পণ্যের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, মদ ও ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এসব পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে স্থায়ীভাবে এ ধরনের অপরাধ দমনে সীমান্তজুড়ে আরও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, অবৈধ পণ্য ও চোরাই মালামাল জব্দের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ বাণিজ্য দমনে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তপথে চোরাচালান রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত