মেধাবী প্রজন্ম গঠনে ক্রীড়ায় নতুন দিগন্ত: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার
মেধাবী প্রজন্ম গঠনে ক্রীড়ায় নতুন দিগন্ত: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মেধাবী, সুস্থ, সুশৃঙ্খল এবং আত্মবিশ্বাসী নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই চারটি ক্ষেত্রের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মানবসম্পদ গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াকে একটি টেকসই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বার্তার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সূত্র, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, সরকার তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অনুসন্ধান এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া কেবল শরীরচর্চা কিংবা বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ক্রীড়াকে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শৈশব থেকেই নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি ক্রীড়া-নির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ক্রীড়া একজন মানুষের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এ কারণেই সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু জাতীয় পর্যায়ে ভালো খেলোয়াড় তৈরি করা নয়, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা। এ উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার অন্যতম হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

তিনি জানান, চলতি বছরের ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে আটটি ক্রীড়া ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে হাজারো শিশু-কিশোর নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। সোমবার, ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অনুসন্ধান, প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি টেকসই ও কার্যকর ভিত্তি নির্মাণ করবে।

তারেক রহমান বলেন, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ইতিবাচক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একজন ভালো খেলোয়াড় কেবল মাঠেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। ক্রীড়ার মাধ্যমে যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দলগত চেতনার শিক্ষা অর্জিত হয়, তা ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়ন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের প্রতিভা চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই জাতীয় কাঠামো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এ ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে নতুন দুটি ইভেন্ট—টেবিল টেনিস ও ভলিবল—সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে প্রতিযোগিতার মোট ইভেন্টের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০টি। একই সঙ্গে আরও বেশি সংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগে যেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারত, সেখানে নতুন আসর থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বয়সসীমা সম্প্রসারণের ফলে আরও অল্প বয়স থেকেই প্রতিভাবান শিশুদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে, যা আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নতুন দুটি জনপ্রিয় ইভেন্ট যুক্ত হওয়ায় দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমী এই কর্মসূচির আওতায় আসার সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশ নেওয়া এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা গর্বের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। তিনি বলেন, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সব শিশু-কিশোর ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ক্রীড়ার সমন্বিত বিকাশের যে লক্ষ্য সরকার তুলে ধরেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই জাতীয় অগ্রগতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত