ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সতর্ক করলেন সাইফুল হক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সতর্ক করলেন সাইফুল হক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি।

রোববার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে ‘কালের দাবি’ কার্যালয়ে সাইফুল হকের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে রচিত সংকলন গ্রন্থ ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রায় তিন শতাধিক অতিথি অংশ নেন। পরে তার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাইফুল হক বলেন, দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। জনগণ গণতন্ত্র, সুশাসন এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের এই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি, অর্থ পাচার, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির মতো সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছাড়া জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

সাইফুল হক আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচিত সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে ৩১ দফা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে কার্যকর আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা গেলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতিও তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা উচিত নয়, যাতে অতীতের বিতর্কিত বা পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি পুনরায় সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তিনি সংলাপ, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সাইফুল হকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, সাইফুল হক দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গণতন্ত্র, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির যে চর্চা তিনি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রেখেছেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তারা মনে করেন, মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের সংস্কৃতি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থে তার রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার অবদান তুলে ধরা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে জানতে এ ধরনের প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রশ্নটি গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নিজেদের অবস্থান থেকে রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সুশাসন নিয়ে মতামত তুলে ধরছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংলাপ ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি। গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপরই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা সাইফুল হকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব রাজনৈতিক শক্তির গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত