৫১ অনুচ্ছেদ নিয়ে চুপ্পুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আখতার হোসেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
৫১ অনুচ্ছেদ নিয়ে চুপ্পুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আখতার হোসেন

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদকে সামনে এনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ বা গ্রেপ্তার ঠেকানো সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানের যে সুরক্ষা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় প্রযোজ্য ছিল, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তা আর কার্যকর থাকে না। একই সঙ্গে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং গণভোটের ফল বাস্তবায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন।

রোববার (২৬ জুলাই) রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ও পথসভা’য় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ন্যায়, গণতন্ত্র, অধিকার ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।

বক্তব্যের শুরুতেই আখতার হোসেন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে সাম্প্রতিক আইনগত ও রাজনৈতিক আলোচনায় সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের বিষয়টি বারবার সামনে আনা হচ্ছে। তবে তার দাবি, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যে সাংবিধানিক দায়মুক্তি বা সুরক্ষা বিদ্যমান থাকে, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তা আর প্রযোজ্য নয়। তাই ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া বা গ্রেপ্তার ঠেকানো যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব নাগরিককে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তার ভাষায়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না।

আখতার হোসেন তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত প্রতিফলিত হলেও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার দাবি, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে দলীয় প্রভাব বাড়ানোর প্রবণতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা প্রয়োজন। তার মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ অন্যান্য নেতারা রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা দলীয় কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময়ের কথা জানান।

সমাবেশে স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল পারভেজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার ছোটন, আলী রুশদী মজনুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীর উপস্থিতিও অনুষ্ঠানে লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মধ্যে সংলাপ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা এবং সাবেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের আইনি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও অধিকাংশই আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, সংবিধানসংক্রান্ত যেকোনো ব্যাখ্যা এবং আইনগত পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত আদালত ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবির পাশাপাশি আইনগত ব্যাখ্যা এবং বিচারিক সিদ্ধান্তই এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত গুরুত্ব বহন করে।

এনসিপির ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি বিভিন্ন জেলায় জনসংযোগ, রাজনৈতিক মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণের মতামত সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিভিন্ন দলের জনসংযোগমূলক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত