লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল সাবেক ছাত্রদল নেতার প্রাণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২ বার
লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল সাবেক ছাত্রদল নেতার প্রাণ

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লক্ষ্মীপুরে দ্রুতগতির একটি ড্রামট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রুবেল। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তার এই আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। দুর্ঘটনার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার ভোরে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরের মজুচৌধুরীরহাট সড়কের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দ্রুতগতির ড্রামট্রাক বিপরীত দিক থেকে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঘাত পান চৌধুরী রুবেল।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রুবেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, যা পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত চৌধুরী রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা এবং ফারুক হোসেন চৌধুরীর বড় ছেলে। তিনি জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ ছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনরা বলছেন, পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো একজন কর্মঠ মানুষকে তারা হারিয়েছেন।

রুবেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে তার ভাই ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফ হোসেন চৌধুরীর বরাত দিয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন মুন্না গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি বেপরোয়া ড্রামট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে প্রতিনিয়ত মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। এমন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে ড্রামট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব যানবাহনের বেপরোয়া গতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। তারা বলছেন, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান। তাদের মতে, নির্দিষ্ট গতিসীমা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারী যানবাহনের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি।

এদিকে দুর্ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং ড্রামট্রাকটি জব্দ বা চালকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া যানচালনা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং দুর্বল নজরদারি। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

চৌধুরী রুবেলের মৃত্যু আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিল যে, সড়কে অসচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচলের মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশের পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা কঠিন হবে।

রুবেলের স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এভাবে প্রিয়জনকে হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত