১২ বছর পর রুয়েটে প্রো-ভিসি, দায়িত্বে আখতার হোসেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ বার
১২ বছর পর রুয়েটে প্রো-ভিসি, দায়িত্বে আখতার হোসেন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ হলো। সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২ বছর ধরে পদটি শূন্য থাকার পর এই নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহল।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ২১(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসরের নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে হবে—এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও সংবিধিবদ্ধ বিধান অনুযায়ী প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের ওপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন।

রুয়েট দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশল শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, একাডেমিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। নতুন প্রো-ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের দায়িত্ব বণ্টন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন এবং একাডেমিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কমিটিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গবেষণা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকায় প্রশাসনিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বিত নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রো-ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. আখতার হোসেনের সামনে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে।

রুয়েটের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সর্বশেষ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মর্ত্তুজা আলী। তিনি ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর এ পদে নিয়োগ পান এবং ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর তাঁর চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পদটি শূন্য ছিল। এই দীর্ঘ বিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রশাসনিক অনেক অতিরিক্ত দায়িত্ব এককভাবে সামলাতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করেন, প্রো-ভিসি পদটি শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী অবস্থান। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, একাডেমিক কার্যক্রম তদারকি, বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়, গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর। ফলে দীর্ঘদিন এই পদ শূন্য থাকায় যে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ছিল, তা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রত্যাশা, নতুন প্রো-ভিসির নেতৃত্বে গবেষণার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নেও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মনে করছেন।

উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; দক্ষ প্রশাসন, গবেষণাকেন্দ্রিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নীতিমালা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় রুয়েটে দীর্ঘদিন পর প্রো-ভিসি নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শূন্যপদ পূরণ এবং একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের আশা, অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, একাডেমিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে রুয়েটকে আরও কার্যকর, গবেষণামুখী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা দূর হওয়ায় শিক্ষা, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সৃষ্টি হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত