প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুদৃঢ়করণের ক্ষেত্রে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম। দেশের যেকোনো চাঞ্চল্যকর অপরাধের গভীরে গিয়ে অপরাধীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এই বিশেষায়িত সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধানের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন দেশের মেধাবী ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার সকালে রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি সদর দপ্তরে পৌঁছে তিনি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাঁর নতুন কর্মভার গ্রহণ করেন, যা পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মিডিয়া উইং থেকে প্রেরিত এক সুনির্দিষ্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহতি করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখা থেকে জারিকৃত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অন্যান্য দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তিনি আজ বুধবার সকালে সিআইডি সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে তাঁর ওপর অর্পিত এই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে সিআইডির বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন কর্মঅধ্যায়ের সফলতা কামনা করেন।
সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা বা এনএসআই-এর পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণে তাঁর সেই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এখন সিআইডির অপরাধ তদন্ত ও উদঘাটন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের অত্যন্ত চৌকস এবং দক্ষ একজন কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশ পুলিশে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত ১৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে। মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে তিনি সেবার সহকারী পুলিশ সুপার বা এএসপি হিসেবে সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি ছাড়াও রাজধানী ঢাকা মহানগর পুলিশ বা ডিএমপি, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বা সিএমপি, এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব, পুলিশ সদর দপ্তর এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুলিশ রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি সারদায় অবস্থিত স্বনামধন্য বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি এবং সিআইডির বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইউনিটেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে পুলিশের নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন তাঁর সুউচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্যও পুলিশ বাহিনীতে বিশেষভাবে সমাদৃত। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাঁর আইনি জ্ঞান ও বিচারিক বোধকে আরও অনেক বেশি শাণিত করেছে। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বরং আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা, অপরাধ বিজ্ঞান বা ক্রিমিনোলজি, অপরাধের ফরেনসিক তদন্ত এবং জটিল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বিষয়ে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানি থেকে নানা ধরনের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নিজের পেশাগত দক্ষতাকে সবসময় সমৃদ্ধ করেছেন।
আজ বুধবার সকালে সিআইডি সদর দপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির হাতে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধান উপস্থিত সকল কর্মকর্তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের চলমান অপরাধ দমন, পেন্ডিং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলার তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক অপরাধ, সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার এবং অন্যান্য চাঞ্চল্যকর অপরাধের তদন্তে সিআইডিকে আরও বেশি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন বলে জানা গেছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনের এই যোগদান দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ বিচার প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে দেশের আইনবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন। তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আইনি প্রজ্ঞা এবং গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা সিআইডিকে অপরাধ দমনে আরও বেশি যুগোপযোগী করে তুলবে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানিমুক্তভাবে দ্রুত ন্যায়বিচার লাভ করতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে সিআইডি প্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আগামী দিনগুলোতে এক নতুন ইতিহাস রচনা করবে—এমনটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।