প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও কূটনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন ও উষ্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সম্প্রতি ইরানের হামলার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে দৃঢ় সংহতি ও নৈতিক সমর্থন জানানো হয়েছিল, তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কের এই গভীরতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট প্রেরিত একটি বিশেষ ও কূটনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন চিঠিতে তিনি এই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। ঢাকাস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সংঘটিত হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছিল। বন্ধুপ্রতিম দেশের দুঃসময়ে বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম অবস্থান এবং কূটনৈতিক সমর্থন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমিরাত নেতৃত্বের। প্রেরিত চিঠিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সংকটকালীন মুহূর্তে বাংলাদেশের মতো একটি বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সহানুভূতি ও সমর্থন তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে। ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশের এই পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আগামী দিনে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা কূটনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
এই কূটনৈতিক বার্তার একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও সংবেদনশীল দিকও রয়েছে, যা দুই দেশের সাধারণ মানুষের আবেগকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সাম্প্রতিক ওই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ও বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নাগরিক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। দূর প্রবাসে জীবিকার তাগিদে গিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে নিহত those দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতিও তাঁর মমতাপূর্ণ সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীরা দুই দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে যে অনস্বীকার্য অবদান রেখে চলেছেন, এই শোকবার্তার মাধ্যমে তা সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আবারও স্বীকৃতি লাভ করল।
চিঠির অন্যান্য অংশে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবিক খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইউএই প্রেসিডেন্ট। উভয় দেশের সরকারের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব কেবল দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থই রক্ষা করছে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুসম্পর্ক আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলে দুই দেশের বাণিজ্য ও নীতিনির্ধারক মহল আশাবাদী।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং আকর্ষণীয় বিষয় হলো, বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূর্বে প্রেরিত আমন্ত্রণকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন ইউএই প্রেসিডেন্ট। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সুবিধাজনক প্রথম সুযোগেই তিনি সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বন্ধুপ্রতিম এই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বাংলাদেশ সফরের এই আগ্রহ দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। শেখ মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর এই আসন্ন সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বিদ্যমান সুদৃঢ় সম্পর্ককে কেবল আরও গভীরই করবে না, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে। প্রজ্ঞাপন ও কূটনৈতিক তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, প্রগাঢ় বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বহুমুখী সম্পর্ক ভবিষ্যতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।