পল্টনে ৫ আগস্ট রাজপথে নামছে ১১–দলীয় ঐক্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
পল্টনে ৫ আগস্ট রাজপথে নামছে ১১–দলীয় ঐক্য

প্রকাশ: ৩১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা নাটকীয়তা, মতবিরোধ এবং আন্দোলন-সংগ্রামের তীব্রতার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য এক নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আবারও মাঠের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও ঐতিহাসিক গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়নের জোরালো দাবিকে সামনে রেখে আগামী পাঁচ আগস্ট রাজধানী ঢাকার জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পল্টন এলাকায় একটি বিশাল সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এই জোটটি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত বুধবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই জনসমাবেশের কর্মসূচি নির্ধারণের নেপথ্যের গল্প ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে। গত বুধবার সন্ধা সাতটায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিগত কর্মসূচিগুলোর মূল্যায়ন এবং আগামীদিনের কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে রাত দশটার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই নতুন কর্মসূচির রূপরেখা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, গত পঁচিশ জুলাই সিলেট বিভাগীয় সফল সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বে ঘোষিত ধারাবাহিক কর্মসূচিগুলোর একটি ধাপ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচিগুলোর চূড়ান্ত রূপ ও সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য আগামী তিন আগস্ট পুনরায় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষনেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পুরো কর্মসূচিটি সম্পূর্ণরূপে চূরান্ত করা হবে।

ঐতিহাসিক মিন্টো রোডের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী নেতারা উপস্থিত থেকে তাদের রাজনৈতিক সংহতির পরিচয় দেন। লিয়াজোঁ কমিটির ওই বৈঠকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পুরো বৈঠকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সভাপতিত্ব করেন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জোটের অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কোনো শীর্ষ প্রতিনিধি এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের গুঞ্জন ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকের আলোচনা কেবল আগামীদিনের কর্মসূচি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে মুখরিত ছিল পুরো পরিবেশ। সাম্প্রতিক অতীতে সিলেটের হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির জ্যেষ্ঠ ও দায়িত্বশীল নেতাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেন এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিংকালে ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ হবিগঞ্জের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে গণমাধ্যমকে বলেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় গৌরবোজ্জ্বল বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১–দলীয় ঐক্য ও এর শরিক দলগুলো দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার অংশ হিসেবে সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপির সঙ্গে ঘটে যাওয়া হামলা ও সহিংসতার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির বক্তব্যে কারও দ্বিমত থাকতেই পারে, আর সেই দ্বিমত প্রকাশের ভাষা হওয়া উচিত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব সন্ত্রাসী কায়দায় পেশিশক্তি প্রদর্শন করে দেওয়ার অর্থ হলো বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের অন্ধকার দিনগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটানো, যা এ দেশের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগের সুর আরও চড়ান এবং বলেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করতে না পেরে এই সরকার এখন ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার হীন উদ্দেশ্যে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, যুবদল, ছাত্রদল এবং বিএনপির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরাই সুপরিকল্পিতভাবে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এই হামলা চালিয়েছে। এই কাপুরুষোচিত হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত কুশীলব ও সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি তীব্র তাগিদ দেন। একই সঙ্গে সরকারের সকল ধরনের জনবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এককাতারে এসে একটি শক্ত ও সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। আগামী পাঁচ আগস্ট পল্টনের বিশাল গণসমাবেশ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদের সুর আরও জোরালো হবে বলে জোটের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত