দর্শনা সীমান্তে বিপুল স্বর্ণসহ পাচারকারী আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার
দর্শনা সীমান্তে বিপুল স্বর্ণসহ পাচারকারী আটক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকা দর্শনা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির একটি অত্যন্ত সফল ও সাহসিকতাপূর্ণ অভিযানে প্রায় সাড়ে তেরো কোটি টাকা বাজারমূল্যের বিশাল পরিমাণ স্বর্ণসহ এক পেশাদার পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এই অভিযানটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক অনন্য ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র মূল্যবান ধাতু ও মুদ্রা পাচার করে আসছিল, যার ফলে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং তৎপরতার কারণে এই বিশাল চালান আটকের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের একটি বড় সিন্ডিকেটের তৎপরতা সাময়িকভাবে থমকে গেছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর এই কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতিকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন ছয় বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরಿತ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায় যে ঘটনার দিন গোপন সূত্রের ভিত্তিতে একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদ বিজিবি কর্মকর্তাদের হাতে এসে পৌঁছায়। সংবাদের সারাংশ ছিল যে দর্শনা উপজেলার অত্যন্ত সংবেদনশীল পারকেষ্টপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্বর্ণ প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করার একটি বড় প্রচেষ্টা চালানো হতে পারে। এই গোপন সংবাদের সত্যতা যাচাই করার পর চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন ছয় বিজিবির একটি বিশেষ চৌকস টহল দল দ্রুত প্রস্তুত হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার নির্দিষ্ট স্থান অর্থাৎ সীমান্ত পিলার আটাত্তর নম্বরের কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানে ওঁৎ পেতে থাকে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় ছিলেন এবং প্রতিটি সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলেন।

পূর্বনির্ধারিত তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার বিকেলে যখন কাঙ্ক্ষিত সময় ঘনিয়ে আসে, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলকে দ্রুত গতিতে ওই সীমান্ত এলাকার দিকে এগিয়ে আসতে দেখেন দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা। চালকের গতিবিধি এবং চেহারার ভাবভক্ষ্য দেখে বিজিবির সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে মোটরসাইকেলটিকে চ্যালেঞ্জ করে থামার নির্দেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে চালক পালানোর চেষ্টা করলেও বিজিবি জওয়ানদের পেশাদারিত্বের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আটককৃত ওই ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করার সময় তার সঙ্গে থাকা বিভিন্ন আকার ও ওজনের মোট ঊনচল্লিশ পিস খাঁটি স্বর্ণের বার ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মোট ওজন ছিল প্রায় ছয় কেজি নয়শো আটষট্টি গ্রাম, যার বর্তমান আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় তেরো কোটি বত্রিশ লক্ষ তেষট্টি হাজার টাকা। এত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান স্বর্ণ একা বহন করার দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজিবি সদস্যরাও হতবাক হয়ে যান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে আটকৃত পাচারকারী তার অপরাধের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। সে জানায় যে দীর্ঘদিন ধরে সে এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত এই সমস্ত স্বর্ণ তার নিজের নয়, বরং অন্য কোনো চক্রের নির্দেশেই সে সীমান্ত পার করে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বহন করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে যে আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, যার বয়স বত্রিশ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী বিশ্বাসের সুযোগ্য সন্তান হিসেবে পরিচিত। সাধারণ একজন গ্রামীণ যুবক হয়ে কীভাবে তিনি আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন এবং এর পেছনে অন্য কোনো বড় কোনো অর্থদাতা বা গডফাদারের হাত রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে গভীর অনুসন্ধান শুরু করেছে। চোরাচালানের কাজে ব্যবহারের জন্য তার কাছ থেকে একটি সচল মোটরসাইকেল, যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং নগদ চৌদ্দ টাকা মাত্র জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আটককৃত আসামি মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দর্শনা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত এই প্রায় সাত কেজি ওজনের মূল্যবান স্বর্ণ আইনগত বিধিমালা মেনে চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে নিরাপদে জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের সুযোগ্য অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে আরও জানান যে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান, মাদক ব্যবসা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে বিজিবি সব সময় সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা করতে এবং চোরাচালানের শিকড় উৎপাটন করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি এই ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে সীমান্তে অপরাধের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত