ডিবি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ সদস্য আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার
ডিবি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ সদস্য আটক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা তথা এনএসআই খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য হয়েও খোদ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যারা দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত, তারা কীভাবে এমন গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি জেলার পানখাইয়া পাড়া সড়কের হোটেল দার আল হিজাজ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করছিলেন এক যুবক। এনএসআইয়ের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর পুলিশ ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে আটক ব্যক্তির আসল পরিচয় ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, ওই যুবকের নাম মো. শিমুল হোসেন এবং তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত যার বিপি নম্বর হলো ৯৭১৬১৯০৬৯৫। তার মূল কর্মস্থল হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ লাইনস নির্ধারিত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১৯ মে তারিখে কুষ্টিয়া জেলার একটি আদালতে চলমান কোনো একটি মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা দেওয়ার কথা বলে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ লাইনসের সশস্ত্র শাখা বা আরআই আইয়ুব আলীর কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছিলেন অভিযুক্ত কনস্টেবল শিমুল হোসেন। কিন্তু আদালতের হাজিরা বা নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি আর নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেননি। কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী তার স্থায়ী বাড়ির ঠিকানায় একাধিকবার আনুষ্ঠানিক নোটিশ ও তাগিদপত্র পাঠানো হলেও তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন এবং কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। পরবর্তীতে তাকে বিভাগীয়ভাবে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা পলায়নপর বা গরহাজির হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত বা বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, কর্মস্থল থেকে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা অবস্থায় মো. শিমুল হোসেন নিজেকে কখনো ডিবি পুলিশ বা গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসতেন। এই ভুয়া পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ নিরীহ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আদায় করার চেষ্টা চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, খাগড়াছড়ি জেলার চিহ্নিত ও কুখ্যাত মাদক কারবারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, ওই আবাসিক হোটেলে তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার চাঞ্চল্যকর তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে হোটেলটিতে এনএসআই ও পুলিশের যৌথ বা পৃথক এই অভিযান পরিচালনার সময় সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের আলামত বা মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এই পুরো ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আটককৃত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য। তিনি আরও জানান যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অপরাধের সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িয়ে পড়ার এমন ঘটনা বাহিনীর পেশাদারত্ব ও সুনামের ওপর বড় ধরণের আঘাত হেনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, কর্মস্থল থেকে দীর্ঘদিন ধরে পলাਤক থাকা অবস্থায় মো. শিমুল হোসেন নিজের পেশাগত পরিচয় গোপন করে বা নিজেকে কখনো প্রভাবশালী ডিবি পুলিশ বা উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসতেন। এই ভুয়া পরিচয়ের প্রভাব ও ক্ষমতা খাটিয়ে তিনি এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ অর্থ আদায় করার চেষ্টা চালাতেন বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, খাগড়াছড়ি জেলার চিহ্নিত ও কুখ্যাত মাদক কারবারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, ওই আবাসিক হোটেলের নির্দিষ্ট কক্ষে তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার চাঞ্চল্যকর তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে হোটেলটিতে এনএসআই ও পুলিশের যৌথ বা পৃথক এই অভিযান পরিচালনার সময় সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের আলামত বা মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

এই পুরো ঘটনার সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আটককৃত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের একজন কর্মরত সদস্য। তিনি আরও জানান যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে অত্যন্ত কঠোরভাবে চলমান রয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং এর সঙ্গে আর কারা বা কোন চক্র জড়িত রয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পুলিশ বাহিনীর মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে থেকে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো সদস্যের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা পুরো বাহিনীর পেশাদারত্ব ও সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত