প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে আগের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন, মেধাক্রম এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম বিবেচনা করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বর্তমান পদ্ধতিই বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় আগের নিয়মের বড় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল, পছন্দের কলেজ এবং মেধাক্রমের ভিত্তিতে অনলাইন ব্যবস্থায় ভর্তি সম্পন্ন করা হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই এ বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি জানান, ফলাফল প্রকাশের এক বা দুই দিনের মধ্যেই ভর্তি কার্যক্রমের নিয়ম ও সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হতে পারে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১০ আগস্ট। এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। ফল প্রকাশের পরই শুরু হবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
বর্তমান ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কলেজে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় না। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের কলেজ নির্বাচন করে। পরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কলেজ নির্ধারণ করা হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এসএসসির ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পদ্ধতি চালু রাখার ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ কমে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।
তবে ভর্তি পরীক্ষা চালুর পক্ষে থাকা একটি অংশের যুক্তি ছিল, শুধু এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে কলেজ নির্বাচন করলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত থাকে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ও নামকরা কলেজগুলোতে আসনসংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে কেউ কেউ মত দেন।
অন্যদিকে, শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি পর্যায়ে আলাদা পরীক্ষা চালু করলে শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ করার পর আবার ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মধ্যে পড়বে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অতিরিক্ত আর্থিক ও সময়ের বোঝা তৈরি করতে পারে।
বর্তমান ভর্তি পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করায় কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এসএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কলেজ নির্বাচন তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে যেকোনো পরিবর্তন আনার আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশের লাখো শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকবে। ফল প্রকাশের পরপরই ভর্তি নির্দেশনা প্রকাশ করা হলে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র বলছে, ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজ নির্বাচন, আসনসংখ্যা, মেধাক্রম এবং কোটা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় আগের নিয়মেই বিবেচনা করা হবে। তবে নতুন কোনো পরিবর্তন থাকলে তা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে জানানো হবে।
সব মিলিয়ে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। কারণ এই ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে তাদের কলেজ নির্বাচনের সুযোগ ও মেধাক্রমে অবস্থান।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন সামনে ফল প্রকাশের সময়। ফলাফলের পর শুরু হবে নতুন শিক্ষাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—পছন্দের কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার প্রতিযোগিতা।