ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌ কমান্ডার কোহলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার
ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌ কমান্ডার কোহলার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তিন দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার। মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত অভিজ্ঞ এই শীর্ষস্থানীয় কৌশলগত সামরিক নেতার নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা পরিমণ্ডলে যেসব উচ্চপর্যায়ী যোগাযোগ ও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে, এই সফরটিকে তারই একটি ধারাবাহিক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির বিশ্লেষকরা।

এর মাত্র তিন দিন আগে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকা সফর করে গেছেন। অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কোনো সামরিক কর্মকর্তার এই বাংলাদেশ আগমন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্ব ভূ-রাজনীতি এবং কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যকার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে।

ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ড গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলারের এই সফরের বিস্তারিত উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের এই সফরে অ্যাডমিরাল কোহলার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনার মূল এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা মেরিটাইম সিকিউরিটি জোরদার করা, অবাধ ও মুক্ত নৌ চলাচলের পথ সুনিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগগুলো নিয়েও দুই পক্ষ বিস্তারিত মতবিনিময় করবে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আরও নিবিড়ভাবে পাশে থাকতে পারে, তা এই বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও অভিজ্ঞ এক সামরিক ব্যক্তিত্ব হলেন অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার। কর্মজীবনে তিনি কেবল একজন দক্ষ যুদ্ধবিমানচালকই ছিলেন না, বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত সামরিক অভিযানে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি এর আগে মর্যাদাপূর্ণ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন, ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার এবং ফাইটার স্কোয়াড্রন ১৪৩-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন যেমন—অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম, অপারেশন সাদাফ ওয়াশ বা সাউদার্ন ওয়াচ, অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম এবং অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ-এ তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এছাড়াও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং লিবিয়ায় পরিচালিত বহুজাতিক শান্তি রক্ষা ও সামরিক কার্যক্রমেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের মতো প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মার্কিন বাহিনীর ‘অপারেশন ইউনিফাইড রেসপন্স’-এর আওতায় পরিচালিত জরুরি মানবিক ও দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রমে তিনি সম্মুখসারির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সুদূর প্রশান্ত মহাসাগর ও পূর্ব চীন সাগরে গুরুত্বপূর্ণ সব নৌ অভিযান ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমন একজন জ্যেষ্ঠ এবং অভিজ্ঞ সামরিক কমান্ডারের ঢাকা সফর বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার ভিতকে আরও বেশি পোক্ত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব কেবল দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতেই সহায়তা করছে না, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিন দিনের এই সফল কূটনৈতিক ও সামরিক সফর শেষে অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলারের নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধিদলটি আগামী ৬ আগস্ট ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও সুদূর প্রসারী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com