গ্রাহকের মুখোমুখি দাঁড়ান, বিল বাড়ার জবাব দিন: তাসনিম জারা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
গ্রাহকের মুখোমুখি দাঁড়ান, বিল বাড়ার জবাব দিন: তাসনিম জারা

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ এক চরম অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে যখন মানুষের মাসিক আয় ও ক্রয়ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে আসছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ খাতের এই লাগামহীন ও অস্বাভাবিক বিল বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং এর নেপথ্য কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অত্যন্ত জোরালো ও প্রতিবাদী পোস্ট দিয়েছেন দেশের পরিচিত মুখ ও গবেষক ড. তাসনিম জারা। তার এই সরব প্রতিবাদ মুহূর্তের মধ্যে দেশের ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই পোস্টে ড. তাসনিম জারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া একটি বিতর্কিত পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। সেই স্ক্রিনশটের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন যে, সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের কষ্টের কথা বলতে মুখ খুলবে বা ন্যায়সংগত অধিকারের দাবিতে আওয়াজ তুলবে, ঠিক তখন তাদের টুঁটি চেপে ধরার বা দমন করার এই পুরোনো ও স্বৈরাচারী প্রবণতা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের অবিলম্বে সরে আসতে হবে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন যে, যারা দেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছেন বা সরকারি সেবা দেওয়ার চেয়ারে বসেছেন, তারা কেউ এই দেশের জমিদার বা প্রভু নন, বরং তারা হলেন এ দেশের সাধারণ জনগণের সেবক। সুতরাং সেবক হিসেবে জনগণের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ না করে তাদের প্রকৃত সেবকের মতোই বিনয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ড. তাসনিম জারা তার সুনির্দিষ্ট ফেসবুক পোস্টে আরও দাবি করেছেন যে, তার নিজ পরিচিত গণ্ডির মধ্যে এবং চারপাশের বহু মানুষ প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছেন যে, পূর্ববর্তী মাসগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হাতের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বেশি এসেছে। এই বিল বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যারা এই অতিরিক্ত বিল নিয়ে প্রতিবাদ করছেন বা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরছেন, তাদের একটা বড় অংশ কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গেও তাদের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। তারা সম্পূর্ণ সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ, যারা কেবল নিজেদের হাছিল করা উপার্জনের মাধ্যমে কোনোমতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের এলাকার বাসাবো, মাদারটেক এবং নন্দীপাড়ার মতো জনবহুল এলাকার স্থানীয় কমিউনিটি গ্রুপগুলোতে প্রতিনিয়ত বহু সাধারণ মানুষ একই ধরনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে আসছেন। বর্তমানের এই চরম মূল্যস্ফীতির বাজারে এমনিতেই দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ছোট্ট সংসারটি কোনো রকমে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন, তার ওপর এই ধরনের অস্বাভাবিক ও মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তাদের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের এই ন্যায্য ক্ষোভ ও কষ্টের কথা শুনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকিস্বরূপ বার্তা দিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পোস্টের শেষাংশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের উদ্দেশে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করে ড. তাসনিম জারা লিখেছেন যে, সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার জন্য অতীতে যে ধরনের হুমকিমূলক আচরণ করা হয়েছে, তার জন্য অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং সেই সব অবান্তর হুমকি প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তিনি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান খাতের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করতে হলে দ্রুত উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। লুকিয়ে না থেকে সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের মুখোমুখি বসতে হবে এবং স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিতে হবে কেন আগের তুলনায় এই অস্বাভাবিক বেশি বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত সাহসী ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন যে, যারা অন্যায়ভাবে বা জবাবদিহি এড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষকে হুমকি দেয়, মূলত তারাই সেই ব্যক্তি বা পক্ষ, যাদের কাছে জনগণের কোনো সঠিক ও সদুত্তর থাকে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. তাসনিম জারার এই সাহসিকতাপূর্ণ ও প্রতিবাদী পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নিজেদের বিদ্যুৎ বিলের ভোগান্তির কথা কমেন্ট বক্সে তুলে ধরতে শুরু করেন। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে যে, জ্বালানি খাতের এই বিশৃঙ্খলা ও গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে জড়িত নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উচিত সাধারণ মানুষের এই ন্যায্য ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষা অনুধাবন করে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও জনবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অন্যথায় এই ক্ষোভ আরও বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষের রূপ নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত