সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার
সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

প্রকাশ:  ০৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রেল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রুটে এক আকস্মিক ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সমগ্র উত্তর অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনের পাজরে সংঘটিত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই উত্তরবঙ্গগামী ও ঢাকামুখী সমস্ত ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক এই রেল দুর্ঘটনার ফলে পথে পথে আটকা পড়ে অসংখ্য ঘরমুখী ও জরুরি কাজে ভ্রমণরত সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত লাইন সচল করতে এবং আটকে পড়া ট্রেনগুলো স্বাভাবিক করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে সিরাজগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায় যে, মঙ্গলবার সকাল ঠিক ১০টা বেজে ৫৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘সিল্কসিটি এক্সপ্রেস’ সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সংলগ্ন ঐতিহাসিক শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। ট্রেনটি যখন অত্যন্ত ধীরগতিতে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছিল বা স্টেশন অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ করে ট্রেনটির একটি বগি বা কোচ হুট করে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। বিকট শব্দে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনটির ভেতরে থাকা শত শত যাত্রীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীরা জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে আসেন। তবে সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুকিং সহকারী হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানান যে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সিল্কসিটি আন্তঃনগর ট্রেনটি যথারীতি তাদের স্টেশনে এসে পৌঁছানোর পর অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে হঠাৎ করেই এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ের মূল লাইনটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং এর ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় মুহূর্তের মধ্যে ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগের সংযোগ রক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে তীব্র ট্রেনজট ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রী এখন স্টেশনে বসেই চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।

এই হঠাৎ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে রেলওয়ের শিডিউল বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে নীলফামারীর উদ্দেশে যাত্রাকারী যাত্রীবাহী দূরপাল্লার ট্রেন ‘নিলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যমুনা সেতুর অপর পাড়ে অবস্থিত সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে এসে দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়ে আছে। এই ট্রেনটির শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম গরমে ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ট্রেনের ভেতরেই আটকে রয়েছেন। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী অন্যান্য মেইল, এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর ট্রেনগুলোও দেশের বিভিন্ন বড় বড় স্টেশনে দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে পবিত্র উৎসব বা জরুরি কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ তৎপর হয়ে ওঠে। সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী বা পিডব্লিউআই আহসানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, লাইনচ্যুত হওয়া বগিটি দ্রুত উদ্ধার করে রেললাইন পুনরায় সচল করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পাবনার ঈশ্বরদী জংশনে অবস্থিত রেলওয়ের উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছে এবং তারা আশা করছেন যে, উদ্ধারকারী ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর পর দ্রুত লাইনচ্যুত বগিটি ক্রেন বা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে মূল ট্র্যাক থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হবে। এরপর রেললাইনের ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার ও ফিশপ্লেট মেরামত করে যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি পুনরায় ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

রেল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে রেল যোগাযোগ এখনও সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, আরামদায়ক ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু প্রায়শই সিগন্যালিং ত্রুটি, রেললাইনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা পুরনো কোচ ও ফিটিংসের কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে, যা সামগ্রিক রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর মতো কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টের কাছাকাছি এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ফলে জাতীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ যাত্রীরা দাবি তুলেছেন যে, রেললাইনের নিয়মিত ও কঠোর ত্রুটি পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি আরও বাড়াতে হবে, যাতে বারবার যাত্রীদের এ ধরনের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত