রাজনীতিতে শালীনতা চর্চার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার
রাজনীতিতে শালীনতা চর্চার আহ্বান

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনীতি এবং সংস্কৃতির উদার অঙ্গনকে সকল প্রকার কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন চর্চার কালো ছায়া থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ, পরিশীলিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর অত্যন্ত জোরালো গুরুত্বারোপ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, রাজনীতি ও সংস্কৃতির বর্তমান ধারা থেকে যদি এই অশালীনতা দূর করা না হয়, তবে তা সমগ্র দেশের ভাবমূর্তি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অপূরণীয় এক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে। সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এই দিকনির্ধারক বক্তব্য প্রদান করেন।

ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তাঙ্গনে আয়োজিত এই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী তরুণ সমাজ একত্রিত হয়েছিল। উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বিগত বছরগুলোতে জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া বিপর্যয় ও সংকটের কথা অত্যন্ত গভীরভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কারণে আমাদের রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার এক বিরাট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই অনভিপ্রেত শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে একটি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুনরুজ্জীবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি খাতকে পুনরায় তার পুরোনো ঐতিহ্য ও মহিমায় ফিরিয়ে আনতে এবং আরও বেশি পরিশীলিত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা, নান্দনিক সৌন্দর্য এবং পরিশীলিত মূল্যবোধ চিরতরে ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনৈতিক সংলাপ ও ভাষাচর্চার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক ভাষা থেকে সমস্ত কুৎসিত, আক্রমণাত্মক ও অশালীন রূপ চিরতরে বর্জন করে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পুনর্নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এই বিদ্যাপীঠের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সদিচ্ছা থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করেন। দেশের এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতীতেও জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামী দিনেও করবে বলে তিনি আশাবাদী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন যে, বর্তমান সময়ে আমাদের নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাই সকলের সম্মিলিত ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই নান্দনিক উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে তারুণ্যের পদচারণায় ও শিল্পীর কণ্ঠে। উৎসবের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে ছিল আন্তঃবিভাগ নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, যা শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও শিল্পবোধকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে। এ ছাড়াও সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন।

উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক, আবৃত্তি সংসদের ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম জুয়েল এবং সংগঠনটির সাবেক ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন ফরিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। উৎসবের সমাপ্তি পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষণাফলকের সামনে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মাননা স্মারক প্রদর্শন করেন, যা উপস্থিত সুধীজনের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত