রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল আলোচনায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৪ বার
রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল আলোচনায়
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। নির্ধারিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তপশিল ঘোষণা করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণের সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যদের নামসংবলিত একটি হালনাগাদ ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেরণ করেছে সংসদ সচিবালয়। রাষ্ট্রপতির মতো একটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা এবং গভীর বিশ্লেষণ।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য আগামী ১৩ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর ১৫ ও ১৬ আগস্টের মধ্যে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলোর চুলচেরা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ গোপন ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান সংসদে একটি নির্দিষ্ট দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং বিরোধী দলগুলো চূড়ান্ত প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো যৌথ ঐকমত্যে না পৌঁছালে নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নাও হতে পারে এবং একক প্রার্থী হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত ব্যক্তি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই দিনক্ষণ যতই দ্রুত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক মহলে দলীয় প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাওয়ার গুঞ্জন অত্যন্ত জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পরিপক্ব ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে মির্জা ফখরুল এই পদের জন্য অত্যন্ত যোগ্য এবং মানানসই একজন প্রার্থী হতে পারেন। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে আরও বেশ কিছু নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরামের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার সম্পূর্ণ ও একক ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর সর্বসম্মতভাবে অর্পণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকদের বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছিল যে, দলের চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় সংসদীয় বোর্ডের জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করতে পারেন কিংবা তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় যেকোনো চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপির সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থীদের তালিকায় যাঁদের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের নামও রয়েছে। এছাড়া আইন অঙ্গন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও রাজনৈতিক আলোচনা থেকে বাদ পড়েনি। দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে দলের চেয়ারম্যান চমক হিসেবে সম্পূর্ণ নতুন বা অন্য কাউকে এই পদের জন্য মনোনীত করতে পারেন, যা তাঁর সম্পূর্ণ নিজস্ব রাজনৈতিক এখতিয়ারভুক্ত।
উল্লেখ্য যে, বিগত ২১ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। এরপর দেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই নির্বাচন কমিশন এই ত্বরিত তপশিল ঘোষণা করেছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে বলে দেশবাসী আশা প্রকাশ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত