আজকের স্বর্ণের দাম: ভরিতে আবারও বড় উত্থান

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণের বাজারে। সর্বশেষ সমন্বয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা দরে।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দাম গত শনিবার ৮ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে আজ সোমবার দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। তবে অলংকারের ডিজাইন, কারুকাজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নির্ধারিত মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ আগস্ট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বাজারে আবার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসায় স্বর্ণের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।

এই মূল্য সাধারণ ক্রেতার জন্য স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য যাদের নির্দিষ্ট সময়ে স্বর্ণালংকার কিনতে হয়, তাদের বাজেট নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। স্বর্ণের দাম ক্রমাগত ওঠানামা করায় অনেক ক্রেতাই কেনাকাটার সময় নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের স্বর্ণের বাজারে একের পর এক মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১০০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫০ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে মূল্য পরিবর্তনের মাত্রা বেশ উচ্চ।

গত ৭ আগস্টের দর ছিল ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা। এরপর সর্বশেষ সমন্বয়ে প্রতিটি মানের স্বর্ণের দামই আবার বেড়েছে।

স্বর্ণের বাজারে এই ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে আমদানি ও স্থানীয় বাজারের মূল্য নির্ধারণেও তার প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

স্বর্ণকে বিশ্বব্যাপী মূল্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা আর্থিক বাজারে অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়লে এর দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজুসের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে দাম সমন্বয় করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব দেশের বাজারেও তুলনামূলক দ্রুত দেখা যেতে পারে।

ক্রেতাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘোষিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির অন্যান্য ব্যয়। বাজুসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত স্বর্ণের দামের পাশাপাশি অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। ফলে প্রতি ভরির ঘোষিত দামই একজন ক্রেতার চূড়ান্ত পরিশোধযোগ্য অর্থ নয়; অলংকারের ধরন অনুযায়ী মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণালংকার ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলংকারের এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে সংগঠনের আগের নিয়ম কার্যকর থাকবে।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও নির্ধারিত রয়েছে। সর্বশেষ দরে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা। চলতি বছর রুপার দামও একাধিকবার সমন্বয় করেছে বাজুস।

চলতি বছরের স্বর্ণের বাজারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ঘন ঘন দাম কমা-বাড়া। একদিকে ৪৯ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ৫০ দফা কমানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বাজারটি স্থির নয়; আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূচকের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের মূল্যও দ্রুত সমন্বয় হচ্ছে।

সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণ কেনার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ঘোষিত বাজারদরের পাশাপাশি মজুরি, ভ্যাট এবং অলংকারের অন্যান্য উপাদানের খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেনাকাটার সময় জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূল্য ও খরচের হিসাব স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

স্বর্ণের দাম কখন বাড়বে বা কমবে, তা নির্দিষ্টভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারের অবস্থার ওপর ভবিষ্যৎ মূল্য অনেকটাই নির্ভর করবে। ফলে আজকের ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকার দরও পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হতে পারে।

এই মুহূর্তে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ১০ আগস্টের বাজারে এটিই সর্বশেষ কার্যকর দর। স্বর্ণের বাজারে নতুন কোনো সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে বলে বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত